পুলিশের ঝুঁকিভাতার জটিলতা নিরসন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। রবিবার সকাল ১০টায় রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশের ঝুঁকিভাতার জটিলতা নিরসন উপলক্ষে আয়োজিত এক কল্যাণ সভায় এ কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
পুলিশ প্রধান বলেন, ‘আমি আইজিপি পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাজারবাগে কল্যাণ সভায় উপস্থিত হয়ে পুলিশের ঝুঁকিভাতার সমস্যার কথা শুনে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। দুই মাসের ব্যবধানে ১১ এপ্রিল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঝুঁকি ভাতাপ্রাপ্ত সবাই এরিয়ার বিল পাবে।’
গত ১১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের উপসচিব লায়লা মুনতাজেরী দীনা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগের ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পুলিশ বাহিনীর এসআই, সার্জেন্ট, টিএসআই এবং এর থেকে নিম্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের চাকরির বয়সভিত্তিক ঝুঁকিভাতার হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসন করা হবে। এ লক্ষ্যে ঝুঁকিভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিম্ন পদ থেকে পদোন্নতি হলে মোট চাকরিকাল গণনা করে পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে ঝুঁকিভাতা দেওয়া হবে। অর্থাৎ, এই আদেশের ফলে ঝুঁকিভাতার আওতায় থাকা পুলিশ সদস্যদের চাকরিতে প্রবেশের তারিখ থেকে ঝুঁকিভাতা পাওয়ার মেয়াদ গণনা করা হবে। পদোন্নতি পেলেও ওই উচ্চপদ থেকে নতুন মেয়াদ গণনা করা হবে না।
এছাড়া ঝুঁকিভাতা সংক্রান্ত গত বছরের ২৩ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনও বাতিল করা হয়েছে। এই আদেশ ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলেও আদেশ দেওয়া হয়।
আগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একজন পুলিশ সদস্য কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পেয়ে এএসআই হলে তার চাকরির মেয়াদ নতুন করে গণনা শুরু হতো। ঝুঁকিভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার পদোন্নতির আগের চাকরির বয়স গণনা করা হতো না। এতে কনস্টেবল থাকাকালীন তিনি যে ঝুঁকিভাতা পেতেন, এএসআই হওয়ার পর তা কমে আসত। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছিল পুলিশ সদস্যদের মধ্যে। এ নিয়ে এ বছরের ৭ জানুয়ারি বাংলা ট্রিবিউনে ‘পদোন্নতির পর ঝুঁকিভাতা কমে যায় পুলিশের!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
সভায় গতকাল পহেলা বৈশাখের আয়োজন সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ হওয়ার সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আইজিপি। তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের প্রতিটি অনুষ্ঠান সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে হয়েছে। আমি নিজে ঢাকা শহরের অনেক জায়গা ঘুরে দেখেছি। সব বয়সের মানুষের ঢল নেমেছিল পুরো ঢাকা শহর জুড়ে। তেমনি পহেলা বৈশাখে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ছিলো পুরো বাংলাদেশ জুড়ে। কঠোর নিরাপত্তা ও বন্ধু সুলভ আচরণের জন্য মানুষ পুলিশকে পজেটিভলি নিয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রতিটি ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করেছে। সবার আন্তরিকতায় সুন্দর একটি পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘এতো অল্প সময়ে পুলিশ বাহিনীর একটি যৌক্তিক দাবি পূরণের কোনও নজির নেই। এজন্য আইজিপি স্যারকে সবার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ। ডিএমপি বাংলাদেশ পুলিশের দর্পণ। মানুষের সেবাই আমরা আছি, থাকবো। পেশাদারিত্বের মাধ্যমে জননিরাপত্তা দিয়ে যাবো।’
অত্যন্ত উৎসবুখর পরিবেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ‘টিম ডিএমপি’ পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা দিয়েছে। এজন্য টিম ডিএমপি’র সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।








