বাড়ছে ধর্ষণের সঙ্গে বীভৎসতাও

উদিসা ইসলাম
১৯ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:৪৫আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:২১

ধর্ষণ
মা মারা যাওয়ার পর নিজের বাবার বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৬ মার্চ এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। বুকে ছুরি ধরে, ভয় দেখিয়ে বাবা নিয়মিত যৌন নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেছেন মেয়ে। তার আগের মাসে ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সার্সন রোডের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার খবর প্রচরিত হয়। এই শিশুটিকে ধর্ষণের ও হত্যার ১৭ দিন আগে নগরীর আকবরশাহ থানার বিশ্ব কলোনির একটি ভবনে ডেকে নিয়ে আরেক শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ১০ বছরের সিমুকে ধর্ষণের পর কুপিয়ে হত্যা করা হয়। শিশুটিকে ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়। তার শরীরে অন্তত ৫/৬টি কোপের আঘাত পাওয়া গেছে।

ধর্ষণের মতো অপরাধ করে ক্ষান্ত না হয়ে নির্মমভাবে হত্যা এবং অঙ্গহানির মতো নানা খবরে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। আর মনোরোগ বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্ষণ যৌনবিকৃতি না, যারা ধর্ষণ করছেন, বীভৎস আচরণ ও হত্যার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, মানসিকভাবে তাদের স্বাভাবিক নৈতিকতার অভাব আছে। তারা অন্যদের প্রতি হিংস্রতা প্রয়োগ করে মজা পায়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) জরিপের বরাতে এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ১৮৭ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশিত হয়। উক্ত সময়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ১৯ জন নারীকে। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন দুজন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় ২১ জন নারীকে।

আসক -এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান বলেন, ‘ক্ষমতার নানা দিক থাকে। ধর্ষণকে যখন প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়, তখন বীভৎসতার পরিমাণ বাড়ে। কেবল ধর্ষণ করে সে তার ক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হচ্ছে ভাবলে, তখন সে আরও শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। অন্য অনেকে তার এই নিষ্ঠুরতা নিয়ে কথা বলবে, সেটিকে সে এনজয় করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কাঠামোর যে ক্ষমতা, সেখানে ধর্ষক সবসময়ই সুবিধাবাদী জায়গায় থাকে। ফলে সে চায় প্রতিশোধটি কত বেশি নিষ্ঠুরভাবে নেওয়া যায়। ’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়ক ডা. বিলকিস বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমানে ওসিসিতে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের শিকার শিশু বেশি আসে। এসব শিশুর অনেকের ক্ষেত্রেই ধর্ষক নানা ধরনের বীভৎসতার চিহ্ন রেখে গেছে। কারও ক্ষেত্রে অঙ্গ কাটাছেঁড়া, কারও ক্ষেত্রে শারীরিক নানা নির্যাতনের চিহ্ন থাকে। এই অবুঝ শিশুদের প্রতি এ ধরনের আচরণের কোনও ব্যাখ্যা খুঁজে বের করা কঠিন। এ ধরনের নৃশংসতা শিশুদের আজীবনের জন্য নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করিয়ে দেয়। ’

ধর্ষণের ঘটনায় কেন এমন বীভৎসতা প্রশ্নে মনোরোগ বিশ্লেষক মেখলা সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ধর্ষণ যারা করে তাদের নৈতিকতার জায়গায় কমতি থাকে। ধর্ষণ যৌন বিকৃতি না, মানসিকভাবে তাদের স্বাভাবিক নৈতিকতার জায়গায় অভাব আছে। যে ব্যক্তি ধর্ষণের বীভৎসতা করে তার ব্যক্তিত্বে ত্রুটি থাকে। সে অন্যদের প্রতি হিংস্রতা প্রয়োগ করে মজা পায়। অন্যান্য ক্ষেত্রেও তারা বীভৎস আচরণ করে, হয়তো সামনে আসে না।’

তিনি বলেন, ‘সবার মনেই নেতিবাচক ও ইতিবাচক প্রবৃত্তি থাকে। আমরা নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলো দমিয়ে রাখি। এই হিংস্র ব্যক্তিরা প্রবৃত্তিগুলো চর্চা করে এবং শাস্তি না হওয়ায় প্রশ্রয় পেয়ে যাচ্ছে।’ ধর্ষণ এক ধরনের ক্ষমতা প্রদর্শনও উল্লেখ করে মেখলা বলেন, ‘ধর্ষণ করে হত্যা করা মানে একটি নেতিবাচক জায়গা কীভাবে আরেকটি নেতিবাচক জায়গাকে উৎসাহিত করে। এই ভয়ঙ্কর মানসিকতার অপরাধীরা মানুষজনকে জানাতে চায়, সে কী কী করতে পারে। মানুষ যে এগুলো নিয়ে কথা বলছে—তাও তাদের আত্মতৃপ্তি দেয়। এমনকি ভেতরে কোনও হীনমন্যতা থাকলেও এমনটা ঘটতে পারে। হীনমন্যতাগুলোকে মানুষ ছাপিয়ে তোলার জন্য নানা অপরাধে সম্পৃক্ত হয়। অ্যাবিউজ থেকেও বিষাক্ততা তৈরি হয় এবং যৌনতার স্বাভাবিক ধারণা সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা শেখে।’

 

 

/এপিএইচ/চেক-এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক