রানা প্লাজায় নিহতদের সন্তানেরা মোমবাতি জ্বালিয়ে স্মরণ করলো তাদের মা-বাবাকে। মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মোমবাতি প্রজ্জ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন।
এতে বক্তারা বলেন, মা-বাবা হারানো এতিম শিশু, নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্য ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা রানা প্লাজা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে একর্ড, এলায়েন্স, এনএপি-সহ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান কর্মকাণ্ডের সব প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। সেই সঙ্গে রানা প্লাজা এবং তাজরীন গার্মেন্টসে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রয়োজনীয় সহায়তা, পুনর্বাসন এবং আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রদানেরও আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়নি। এই দায়িত্বহীনতার দায় পুরোপুরি সরকারের। শ্রমিকেরা তাদের জীবন দেবে, আর সরকারকে আমরা ভোট দেবো, ট্যাক্স দেবো। রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় সরকার কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। এটাকে দুর্ঘটনা বললে ভুল হবে, এটা একটি হত্যাকাণ্ড।
রানা প্লাজায় ইথারটেক্স গার্মেন্টসে কর্মরত অবস্থায় আহত শ্রমিক নিলুফার বলেন, ‘এত বড় দুর্ঘটনার পাঁচ বছর পার হয়ে গেলো। অথচ আমাদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত হয় নাই। দুর্ঘটনার পর কেউ এখন ভিক্ষা করে, কেউ ঠিকমতো খাইতে পারে না। মালিকরা একটা গার্মেন্টস বানায়, আরও ১০টা কারখানা চালু করে, অথচ শ্রমিকদের কোনও দাম দেয় না।’
অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে গার্মেন্টসসহ ঝুঁকিপূর্ণ খাতের শ্রমিকদের জন্য এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম চালু, আইএলও কনভেনশন ১২১-এর সঙ্গে পেইন এবং সাফারিং বাবদ বাড়তি অর্থ যোগ করে নতুন ক্ষতিপূরণমূলক আইন, শ্রম আইন, আহত এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনমূলক ধারা সংযোজন, যেকোনও মূল্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করা, ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী সব অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করা।
বক্তব্য শেষে নিহতদের এতিম সন্তানরা বাবা-মায়ের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করেন।








