জাতীয় বাজেটে ৪০ ভাগ কৃষি খাতে বরাদ্দ করাসহ ১০ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট এবং বাসদ।
বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। এ দেশে মোট গ্রামীণ শ্রমশক্তির শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশি কৃষিকাজে নিয়োজিত। জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ আসে কৃষিখাত থেকে। বর্তমানে
কৃষিখাত নানামুখী সংকটে জর্জরিত। অন্যদিকে, অসাধু মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা এ সব কৃষি উপকরণে ভেজাল মিশাচ্ছে, যার ফলে কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না।
বক্তারা আরও বলেন, দেশে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন করে বেকার সমস্যা সমাধানে সরকারি কোনও উদ্যোগ নেই। নেই কোনও রেশনিং ব্যবস্থা। অপরিকল্পিতভাবে ইটভাটা, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, আবাসন, কলকারখানা নির্মাণের ফলে প্রতিবছর এক শতাংশ হারে কৃষি জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। তাই এখাতে আরও বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে।
মানববন্ধনে অন্য যেসব দাবি তুলে ধরা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে— উৎপাদন খরচের সঙ্গে শতকরা ৩০ ভাগ মূল্য যুক্ত করে কৃষি ফসলের দাম নির্ধারণ ও প্রতি ইউনিয়নে সরকারি উদ্যোগে কৃষকের কাছ থেকে ফসল ক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে, ক্ষেতমজুরদের সারাবছরের কাজ দিতে হবে, সাব রেজিস্ট্রি, সেটেলমেন্ট, ভূমি অফিস, কৃষি ব্যাংক, পিডিএফ এবং পল্লী বিদ্যুতের ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে, গ্রামীণ প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং ঘুষ, দুর্নীতি অনিয়ম ও দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে, হাঁট-বাজারের ইজারাদের দৌরাত্ম্য ও দ্বিমুখী টোল আদায় বন্ধ করতে হবে, বিএডিসিকে সচল করতে হবে, চাল ডালসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমাতে হবে, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে এবং কৃষি জমি সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন করতে হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিখিল দাস, খালেকুজ্জামান, বেলায়েত হোসেন, জুলফিকার আলী প্রমুখ।








