পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক সেবন বাড়ে বলে মন্তব্য করেছেন কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী। তার মতে, রাত জাগতে শিক্ষার্থীরা ইয়াবা সেবন করে। বিষয়টি গবেষণা করে দেখারও অনুরোধ জানান তিনি।
সোমবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় ভর্তি পরীক্ষা, পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপের সঙ্গে যোগসূত্র আছে কিনা, তা গবেষণা করে দেখা উচিত। কারণ পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের অনেকেই নির্ঘুম থাকতে ইয়াবা সেবন করে। এটা শিক্ষার্থীদের একটি ভ্রান্ত ধারণা। রাতে পড়ার জন্য ঘুম তাড়াতে আরও উপায় আছে। চোখে পানি দেওয়া যায়, হাত-মুখ ধুয়ে আসা যায়। পড়তে হলে ইয়াবা সেবন করতে হবে কেন?’
ইয়াবার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে বলে মনে করেন ডিজি। তিনি বলেন, ‘ছেলেমেয়ে যদি দিনে না ঘুমিয়েও অনেক রাত জেগে পড়াশোনা করে তাহলেও বাবা-মাকে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। তাকে প্রশ্ন করতে হবে।’
মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির সঙ্গে এক বৈঠকের বরাত দিয়ে কোস্ট গার্ড প্রধান বলেন, ‘সু চি একটি মিটিংয়ে বলেছেন, তাদের দেশের ৭-৮ বছরের শিক্ষার্থীরাও ইয়াবা সেবন করে রাত জেগে পড়ার জন্য। তাদের দেশেও এর ভয়াবহতা রয়েছে।’
মাদক প্রতিরোধে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী। প্রথমত, সরবরাহ বন্ধ করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত চাহিদা কমাতে হবে। ইয়াবার চাহিদা না কমালে সরবরাহ বন্ধ করা যাবে না বলেও মত দেন তিনি।
কোস্ট গার্ড প্রধান জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে কোস্ট গার্ডকে অল্প জনবল নিয়ে কাজ করতে হয়। আড়াই হাজার’ জনবলের মধ্যে সবসময় সর্বোচ্চ দুই হাজার থাকে। বাকিরা প্রশিক্ষণ ও ছুটিতে থাকে। এর মধ্যে ৮৬ স্পটে জাটকা ধরা প্রতিরোধেই কাজ করে কোস্ট গার্ড। এছাড়াও সুন্দরবনেও নিয়মিত টহল দেয়। কোস্ট গার্ডের ৪ হাজার ৭০০ জনবলের অনুমোদন রয়েছে। ছোট্ট এই বাহিনীর জনবল নৌবাহিনী থেকে দেওয়া হয়। কম জনবল নিয়েই বর্তমানে ভালো কাজ করছে বলে মূল্যায়ন করেন তিনি।
এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী বলেন, কোস্ট গার্ড ২০১৭ সালে ১৫২ কোটি ৬৭ লাখ এবং এ বছরের প্রথম চার মাসে ৬২ লাখ ৩৮ হাজার ইয়াবা আটক করেছে।
তিনি বলেন, ইয়াবার বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় বিশেষ করে মসজিদের ইমামদের আরও কার্যকর প্রচারণা করতে হবে। ইমামদের কথা বলতে হবে।
অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কোস্ট গার্ড উপকূলীয় অঞ্চলে কাজ করে জানিয়ে কোস্ট গার্ড প্রধান বলেন, ‘কোনও বাহিনীর পক্ষেই মাদক একেবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়।যুক্তরাষ্ট্র টেকনিক্যালি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সাউন্ড। তারাই মাদক বন্ধ করতে পারে না।’
তবে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা যায় মন্তব্য করে তিনি এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান।
এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী জানান, বর্তমানে সাগরে প্রায় ১ লাখ মাছের ট্রলার চলাচল করে। সব ট্রলারে তল্লাশি করা সম্ভব নয়। কেবল সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই ট্রলারগুলোতে তল্লাশি করে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট না থাকায় সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই এখন তথ্য সংগ্রহ করে কোস্ট গার্ড অভিযান চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে স্থানীয়রা তাদের সহযোগিতা করছে বলেও জানান ডিজি।








