দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ হারুন উর রশীদ বলেছেন, গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকরা মূলত তিন দিক থেকে চাপে থাকেন। একটি হলো রাষ্ট্রীয় চাপ, আইনি চাপ এবং গণমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ চাপ।
বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে শুরু হওয়া ‘আইন ও অনুভূতির চাপে মিডিয়া’ শীর্ষক বৈঠকিতে তিনি এসব কথা বলেন।
হারুন উর রশীদ বলেন, ‘গণমাধ্যমের চাপের কথা বলা হয়, কিন্তু এই চাপটা কোথায়? রাষ্ট্রীয় দিক থেকে নাকি অন্য কিছু? হুম, সেটা যেমন আছে তেমনি আইনি চাপ ও অভ্যন্তরীণ চাপ, অর্থাৎ ইনসাইড ইন্ডাস্ট্রি চাপও আছে। তবে ইনড্সাইড ইন্ডাস্ট্রি অর্থাৎ মালিক পক্ষের চাপকেই বেশি বড় চাপ বলে আমি মনে করি। মালিকপক্ষ যদি ব্যবসা করেন এবং সেই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তিনি সরকার বা রাষ্ট্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক রেখে তার পত্রিকায় তিনি কিছু প্রকাশ করবেন না। এভাবেই গণমাধ্যমে একটি সেল্প সেন্সরশিপ তৈরি হয়।’
তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে সাংবাদিকরা বিভক্ত। রাজনৈতিকভাবে কোনও একটি দলের পক্ষে কাজ করেন। যখন তিনি দলীয় হন, তখন দলের কাছ থেকে সুবিধা নিতে চান বলেই দলের বিরুদ্ধে কিছু লেখেন না। এভাবেই তিনি নিজেই নিজের ওপর একটি চাপ তৈরি করেন। এছাড়া কোনও কোনও সাংবাদিকের আয়ের সাথে লাইফস্টাইল মেলে না। তারা বিলাসি জীবনযাপন করেন। এই অর্থ তারা কোথায় পান? ওই সাংবাদিকরা কোনও ব্যবসায়ী, কোনও শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়ে আর্থিক সুবিধা নেন। তখন ওই সাংবাদিকরা ওইসব ব্যক্তির পক্ষে কাজ করেন। এছাড়া বিজ্ঞাপনের ওপরেও যেহেতু গণমাধ্যমকে নির্ভর করতে হয়, সে কারণে ওই বিজ্ঞাপনদাতার সঙ্গেও মিলেমিশে চলতে হয় গণমাধ্যমকর্মীদের। ফলে তাদের বিরুদ্ধেও কিছু লিখতে পারেন না। বর্তমানে এইসব পরিস্থিতি বাংলাদেশে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘এতে স্পষ্ট যে সংবাদ মাধ্যমের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে কমছে। সমালোচনাও আমরা লক্ষ্য করি। তাদের দুষলে চলবে না। আমাদের আত্মসমালাচনায় আসতে হবে। বুঝতে হবে কেন সাংবাদিকদের ওপর মানুষের আস্থা কমেছে।’
ওয়ান-ইলেভেনের সময় কিছু সাংবাদিক নিজের গাড়ি গ্যারেজে লুকিয়ে রেখেছিলেন কেন? এ প্রশ্ন রেখে বিশিষ্ট এই সাংবাদিক বলেন, ‘টিআইবির প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা যেমন বিভিন্ন দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষের দুর্নীতি খোঁজেন এভাবে সাংবাদিকদের দুর্নীতিও খুঁজে বের করুন।’
হারুন উর রশীদ আরও বলেন, ‘আগামীতে সংবাদ মাধ্যমের ওপর চাপ আরও বাড়বে। ট্রাম্প থেকে শুরু থেকে চারদিকে তাকালেই তা বোঝা যায়। তাই সাংবাদিকেদের সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা ছাড়া মুক্ত সাংবাদিকতার পথে এগিয়ে যাওয়ার আর কোনও পথ নেই।’
বৃহস্পতিবার (৩ মে) বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হওয়া বাংলা ট্রিবিউন বৈঠকি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ সরাসরি সম্প্রচার করছে। রাজধানীর শুক্রাবাদে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে এ আয়োজন বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজেও লাইভ দেখা যাচ্ছে।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম








