বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রতিটি রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউর (ইউপিআর) কাছে সুপারিশ করেছে চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ।
রবিবার (৬ মে) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে কোয়ালিশনের পক্ষে প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৫৫ ভাগই শিশু। এই শিশুদের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার শিশু একাকী এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। এই শিশুরা নানারকম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি এই শিশুদের জন্মনিবন্ধনও হচ্ছে না। এর ফলে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই শিশুরা নানা অসুবিধার মুখে পড়বে এবং তাদের সুরক্ষার বিষয়টিও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার ‘শিশু আইন ২০১৩’ প্রণয়ন করেছে। কিন্তু এই আইনের বিধিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া শিশু অধিকার কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে একমত হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শিশুর প্রতি সহিংসতা দিন দিন বেড়েই চলছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) তথ্য অনুযায়ী ২০১৩-২০১৭ পর্যন্ত শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৪৮০টি এবং শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৯২৯টি। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এসব ক্ষেত্রে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে, যা প্রকারান্তরে শিশুর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কাজ করছে। এক্ষেত্রে এসব ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ে বিচারিক কাজ শেষ করা, সব ক্ষেত্রে শিশুর প্রতি শারীরিক ও মানসিক শাস্তি বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিয়ে রোধে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’-এর বিধিমালা চূড়ান্ত করা এবং বিশেষ বিধানের সম্ভাব্য অপব্যবহার রোধে বিধিমালায় সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করারও সুপারিশ করা হয়েছে।
সেভ দ্য চিলড্রেনের চাইল্ড প্রটেকশন বিভাগের পরিচালক লায়লা খন্দকার বলেন, ‘অনেক রোহিঙ্গা নারী গর্ভবতী অবস্থায় বাংলাদেশে এসেছে। এদের অনেকেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন এবং সামনে আরও শিশুর জন্ম হবে। এসব শিশুর জন্মনিবন্ধন না হলে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে নিজ নিজ দেশে জন্মগ্রহণ করা সব শিশুর অধিকারের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে যত শিশু জন্মগ্রহণ করবে সবার একই অধিকার নিশ্চিত করার কথা কনভেনশনে উল্লেখ করা রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাকশন-এইড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক (উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি) কাশফিয়া ফিরোজ, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) শিশু অধিকার ইউনিটের সমন্বয়ক রাশেদা আক্তার, ন্যাশনাল গার্ল-চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরামের সেক্রেটারি নাসিমা আক্তার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ১০-১৩ এপ্রিল ইউপিআর-ইনফো নামের জেনেভাভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজনে জেনেভায় ইউপিআর বিষয়ক একটি প্রি-সেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রি-সেশনের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের বক্তব্য যথাযথভাবে সরকারের কাছে উপস্থাপন ও জাতিসংঘে নিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধিদের অবগত করার জন্য এই আয়োজন। ইউপিআর-ইনফো, ইউপিআর দ্বিতীয় পর্যায় থেকে এই প্রি-সেশনের আয়োজন করেছে। এবারের প্রি সেশনে চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশসহ ৬টি সংগঠন বিভিন্ন মানবাধিকার বিষয়ে উপস্থাপন করেছে। কোয়ালিশনের পক্ষে আইন ও সালিশ কেন্দ্র ও সেভ দ্য চিলড্রেন প্রি-সেশনে অংশগ্রহণ করে শিশু অধিকার বিষয়ে উপস্থাপন করে।








