রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলায় সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলায় অধিকতর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ৪ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ মে) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আল মামুনের আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণার কথা থাকলেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটি অধিকতর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন প্রয়োজন বলে মনে করেন আদালত। তাই যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ফের নতুন দিন ধার্য করা হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার দুলাল বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আগে অন্য একটি আদালতে মামলাটি বিচারাধীন ছিল। পরে এই এখানে আসায় আদালত মনে করেন, আরও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রয়োজন। তাই আদালত মঙ্গলবার (৮ মে) রায় ঘোষণা না করে অধিকতর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ৪ জুন দিন ধার্য করেছেন।’
গত ১০ এপ্রিল ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আল মামুন উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার (৮ মে) তারিখ নির্ধারণ করেন।
এদিকে, ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী নজিবুল্লাহ হিরু আসামির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে রনির বেকসুর খালাস চান।
এর আগে, রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুস সাত্তার দুলাল যুক্তি উপস্থাপন শেষে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে দুটার দিকে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে একটি কালো রঙের প্রাডো গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম আহত হন। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।
১৫ এপ্রিল (২০১৫) নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওই বছরের ৩০ মে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বখতিয়ার আলম রনিকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
২০১৫ সালের ২১ জুলাই ডিবি পুলিশের এসআই দীপক কুমার দাস এ মামলায় রনির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
২০১৬ সালের ৬ মার্চ রনির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সামছুন নাহার। মামলায় ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।








