মাত্র ১০ জন কর্মকর্তা দিয়ে একটা বোর্ড পরিচালনা করে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করা সম্ভব না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিখিল রঞ্জন রায়। তিনি বলেছেন, ‘কেউ কেউ বলেন ট্যুরিজম বোর্ডের সক্ষমতা নেই। আমি এটা স্বীকার করি। মাত্র ১০ জন কর্মকর্তা দিয়ে একটা ট্যুরিজম বোর্ড পরিচালনা করে জনগণের প্রত্যাশিত ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব না।’
মঙ্গলবার (৮ মে) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির মিলনায়তনের এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিখিল রঞ্জন রায়।
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন খাতে আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ প্রসঙ্গে এই প্রাক বাজেট আলোচনার আয়োজন করেছে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি)।
এসময় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিখিল রঞ্জন রায় বলেন, ‘সম্প্রতি কিছু কর্মচারী বা পিয়ন নিয়োগ হয়েছে। অল্প কিছু জনবল দিয়ে ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন সম্ভব না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মান্ডেট রয়েছে ট্যুরিজম বোর্ডের ওপর। এর মধ্যে ডেস্টিনেশন অ্যানালাইসিস করা, প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট করা, ডিজিটাল ক্যাম্পিং, আইটি সেক্টরসহ অন্যান্য কাজ করা। কিন্তু এই কাজগুলো করার মতো কোনও জনবল নেই। একদিকে যেমন জনবল সংকট রয়েছে। অন্যদিকে আমাদের জন্য পর্যপ্ত কোনও বাজেট থাকে না। যার কারণে ট্যুরিজম বোর্ড মানুষের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।’
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী ইমরান আসিফ বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানসহ দেশীয় প্রাইভেট এয়ারলাইন্সগুলোর ব্যবসায় সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য ফুয়েল যে দাম দিয়ে কিনতে হয়, একই ফুয়েল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য তার চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়। অথচ এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে মানুষের আধুনিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি, আর আমাদের কাছ থেকে বেশি দাম রাখা হচ্ছে- এটা স্ববিরোধী।’
নভো-এয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেছেন, ‘এয়ারক্রাফটের যন্ত্রাংশ ক্রয়ে ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হবে না বলে আমাদের আইনে রয়েছে। অথচ আমাদের কাছ থেকে এয়াক্রাফটের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের জন্য কাস্টমস হাউজ ভ্যাট-ট্যাক্স রাখে। এটা বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে।’
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শাকিল মেরাজ বলেন, ‘বিমানের বহরকে আধুনিকয়নের জন্য ১০টি বোয়িং ব্রান্ডিং উড়োজাহাজ সংগ্রহ করছি। যার ছয়টি ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। এর সবগুলোই ঋণ করে কেনা হয়েছে এবং বিমান বাংলাদেশ তাদের নিজেদের আয়ের টাকা দিয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে। আমাদের আরও ৪ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যার কারণে বিমানের সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এবছর ও আগামী বছর ৪টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে তখন ঋণের পরিমাণ দাড়াবে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। যা আমাদের মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের মূলধনের চেয়ে ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের কাছে মূলধন বাড়ানো দাবি জানাচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে বেসরকারি বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাজাহান কামাল, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফারুক খান, টোয়াবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফরিদুল হক, বিটিবি’র গভর্নিং বোর্ড সদস্য জামিউল আহমেদ, আটাবের নূরুল আলম শাহিন, টোয়াবের পরিচালক তাসলিম আমিন শোভন, এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি নাদিরা কিরন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও খবর: বাংলাদেশ বিমানের সেবা নিয়ে অসন্তুষ্ট বিমানমন্ত্রী








