রাজধানীর খিলগাঁও নন্দীপাড়া ব্রিজের পাশে ডিবি পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নিহত মো. নাজির হোসেন ওরফে নিক্সন ওরফে লেলিন ওরফে বাবুর (৩৫) ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ মে) দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. মো. সোহেল মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মরদেহ থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়। ওই গুলিতে তার মৃত্যু হয়।
মর্গে মরদেহ গ্রহণ করতে আসেন নিহতের বাবা আব্দুর রউফ খান ও মামা মো. দিদার। নিহতের মামা মো. দিদার জানান, লেলিন আগে বিদেশ ছিল। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে বড়। মুন্সীগন্জ জেলার শ্রীনগর থানার সমাসপুর গ্রামে তার বাড়ি।
মঙ্গলবার (৮ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁও নন্দীপাড়া ব্রিজের পাশে ডিবি পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. নাজির হোসেন ওরফে নিক্সন ওরফে লেলিন ওরফে বাবু নিহত হয়।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ডিবি (পূর্ব) তথ্য পায় নন্দীপাড়া ব্রিজের কাছে সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে। এরপর রাত অনুমানিক সোয়া তিনটার দিক ডিবির একটি দল সেখানে যায়। এ সময় পুলিশের অবস্থান বুঝতে পেরে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়তে শুরু করে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। গোলাগুলির একপর্যায়ে এক সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে পুলিশ দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় অন্য সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। গোলাগুলির সময় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। তারা পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
ডিএমপির জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘নিহত লেলিন খিলগাঁও থানার একটি হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র ও মাদক আইনে দশটিরও বেশি মামলা আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৯ এপ্রিল গেন্ডারিয়ায় একটি মাদকের অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা ও গুলি করার ঘটনায় লেলিন অন্যতম আসামি ছিল। ২০০১ সালে খিলগাঁও এলাকার একটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তিনি।’
লেলিনের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের রাঢ়িখাল গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুর রউফ। সে সর্বশেষ রামপুরার উলন রোডের একটি বাসায় থাকত। হত্যা মামলায় সাজা হওয়ার পর সে দেশ থেকে একবার পালিয়ে পাশের একটা দেশে গিয়েছিল।








