বাড্ডায় ডিশ ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনায় এবার পরিবারের মামলা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১২ মে ২০১৮, ২২:১১আপডেট : ১৩ মে ২০১৮, ০২:৪৭

ডিশ ব্যবসায়ী বাবু

রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডায় ডিশ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক ওরফে বাবুকে (৩০) হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে তার পরিবার। শনিবার (১২ মে) দুপুরে বাড্ডা থানায় বাবুর বাবা মো. ফজলুর রহমান বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন,‘ নিহত বাবুর বাবার দায়ের করা  মামলায় (নম্বর-১৩) রবিন, সাফায়াত তানভীর ওরফে রনি, ডালিম, রমজান, হেলাল, শুভ, অভির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তানভীর ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১০ মে) রাতে বাড্ডা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এই ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের করেছে। গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (উত্তর) গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. নিরু মিয়া বাদী হয়ে অস্ত্র মামলা (নম্বর-৯) এবং গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (উত্তর) পরিদর্শক রেজাউল করিম বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা সংক্রান্ত আরেকটি মামলা (নম্বর-১০) দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, বুধবার (৯ মে) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডায় ডিশ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক ওরফে বাবুকে (৩০) প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা রাস্তার ওপরে পড়ে যায়। তখন স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে দুর্বৃত্তরা মধ্য বাড্ডার একটি ভবনে ঢুকে পড়ে। পুলিশ ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তিনজনকে আটক করে। এই তিনজনের মধ্যে তানভীর বুধবার (৯ মে) রাতেই ডিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। হত্যার ঘটনার সঙ্গে আটক  অন্য দুইজনের সম্পৃক্ততা পায়নি পুলিশ। নিহত তানভীর পুলিশকে জানিয়েছে, আটক অন্য দুইজনকে সে চেনে না। তারাও তানভীরকে চেনে না বলে জানায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ডিশ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক ওরফে বাবু (৩০) হত্যার পরিকল্পনা হয়েছে মালয়েশিয়ায়। ঢাকায় থাকা সন্ত্রাসীরা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। ডিশ ব্যবসা ও এলাকার আধিপত্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে বাবুকে দুইদফায় হত্যার চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা। দ্বিতীয়বার সফল হয় তারা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানায়, বাড্ডা, ভাটারা ও গুলশান এলাকার ডিশ ব্যবসা একচেটিয়াভাবে বাবুর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ডিশ বাবুর কাছ থেকে মালয়েশিয়া প্রবাসী রবিন এই ব্যবসা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছিল। রবিন ‘কোম্পানি গ্রুপ’ নামে একটি সন্ত্রাসী দলের নেতৃত্বে রয়েছে। ঢাকায় তার সহযোগীরা হলো ডালিম, রমজান, হেলাল, শুভ, সাফায়াত তানভীর ওরফে রনি ও অভি। বাবুর কারণে এসব এলাকা থেকে রবিনের অবৈধ কোনও আয় হচ্ছিল না। তাই ঢাকায় থাকা তার সহযোগীদেরকে বাবুকে হত্যার নির্দেশ দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কোম্পানি গ্রুপ বাবুকে হত্যা করে।

নিহতের বাবা মো. ফজলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার ছেলের কী দোষ ছিল যে, ওরা এমন নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করলো। আমি এর বিচার চাই, আসামিদের কঠোর শাস্তি চাই।’

 

/এসজেএ/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম