সারাদেশের আইনজীবীদের নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে আগামীকাল সোমবার (১৪ মে) ভোট নেওয়া হবে। এ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা এরই মধ্যে নিজেদের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা শেষ করেছেন।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট নেওয়া হবে। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে স্থাপিত ভোটকেন্দ্র, দেশের জেলা সদরের সব দেওয়ানি আদালত প্রাঙ্গনে স্থাপিত ভোটকেন্দ্র এবং বাজিতপুরসহ দেশের ১২টি উপজেলা পর্যায়ের দেওয়ানি আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা।
এবারের নির্বাচনে ভোটার ৪৩ হাজার ৭১৩ জন। নিয়ম অনুসারে ১৪টি পদের মধ্যে আইনজীবীদের ভোটে সাধারণ আসনে ৭ জন এবং আঞ্চলিকভাবে (গ্রুপ আসনে) ৭ জন আইনজীবী বার কাউন্সিল পরিচালনার জন্য সদস্য নির্বাচিত হবেন। পরে নির্বাচিত ১৪ সদস্যের মধ্য থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও মতামতের ভিত্তিতে একজনকে ভাইস-চেয়ারম্যান করা হবে।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী প্যানেল
সাধারণ আসনের ৭ প্রার্থী হলেন বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুয়ায়ুন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বার কাউন্সিলের ফিন্যান্স কমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম, বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম (জেড আই) খান পান্না, অ্যাডভোকেট পরিমল চন্দ্র গুহ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল।
গ্রুপ আসনের সাত প্রার্থী হলেন (গ্রুপ-এ) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির নির্বাচিত সদস্য ও লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, (গ্রুপ-বি) মো. কবির উদ্দিন ভূঁইয়া, (গ্রুপ-সি) ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, (গ্রুপ-ডি) এ. এফ. মো. রুহুল আনাম চৌধুরী, (গ্রুপ-ই) পারভেজ আলম খান, (গ্রুপ-এফ) মো. ইয়াহিয়া এবং (গ্রুপ-জি) রেজাউল করিম মন্টু।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের প্রস্তুতি সম্পর্কে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। বার কাউন্সিলের নির্বাচনে আমাদের দল থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে বলে আশা করছি।’
বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী প্যানেল
সাধারণ আসনের ৭ প্রার্থী হলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন, অ্যাডভোকেট হেলালউদ্দিন মোল্লা, অ্যাডভোকেট মো. আব্বাস উদ্দিন ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আসিফা আশরাফী পাপিয়া।
গ্রুপ আসনের ৭ প্রার্থী হলেন (গ্রুপ-এ) অ্যাডভোকেট মো. মহসীন মিয়া, (গ্রুপ-বি) অ্যাডভোকেট বাধন কুমার গোস্বামী, (গ্রুপ-সি) শেখ মোখলেসুর রহমান, (গ্রুপ-ডি) অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, (গ্রুপ-ই) এস আর ফারুক এবং (গ্রুপ-এফ) অ্যাডভোকেট মো. ইসহাক।
নিজেদের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্যানেলের প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচারণা চালিয়েছি। প্রচারণায় আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার পক্ষে সাধারণ আইনজীবীদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের মতো এ নির্বচনেও আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবো বলে আশা করছি।’
সাধারণ আসনের ৭ গ্রুপের মধ্যে যেসব আইনজীবী সমিতি
‘গ্রুপ-এ’-তে ঢাকা জেলার সব আইনজীবী সমিতি,‘গ্রুপ-বি’-তে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও ফরিদপুর জেলার আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রুপ-সি’-তে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রুপ-ডি’-তে কুমিল্লা জেলা ও সিলেট জেলা অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রুপ-ই’-তে খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি, ‘গ্রুপ-এফ’-তে রাজশাহী, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের আইনজীবী সমিতি এবং ‘গ্রুপ-জি’-তে রয়েছে দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা জেলার আইনজীবী সমিতি।
ভোটকেন্দ্রিক আপত্তি নিষ্পত্তিতে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচনকে ঘিরে আইনজীবী প্রার্থী বা ভোটারদের মধ্যে কোনও আপত্তি দেখা দিলে সে বিষয়ে শুনানির জন্য ৩ সদস্যের একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, অন্য দুই সদস্য বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. ওজি উল্ল্যাহ।
নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ অনুসারে প্রতি তিন বছরে একবার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন হয়। বার কাউন্সিল মূলত ১৫ সদস্যের কমিটি দিয়ে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন ১৪ জন সদস্য।রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনি কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।








