দেশের নদী বন্দরগুলোতে ‘লাইটনিং ডিটেকটিভ সেন্সর’ বসানো হলে ১০ থেকে ৬০ মিনিট আগে বজ্রপাতের সংকেত পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের সাবেক পানি ও পরিবেশবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এস আই খান।
তিনি বলেন, ‘দেশের যেসব নদীবন্দর রয়েছে সেগুলোতে সরকারের ‘লাইটনিং ডিটেকটিভ সেন্সর' বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই সেন্সরগুলো বসানোর ফলে ১০ থেকে ৬০ মিনিট আগে বজ্রপাতের সংকেত পাওয়া যাবে। যার ফলে মানুষ সাবধান হতে পারবে।’
মঙ্গলবার (১৫ মে) বেলা ১১টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) কাউন্সিল কক্ষে ‘ম্যাক্রো এবং মাইক্রো লেভেলের জলবায়ু পরিবর্তন দুর্বলতা এবং প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
আইইবির ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. এস আই খান।
সেমিনারে এস আই খান বলেন, ‘বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের মানুষের বজ্রপাতের জন্য কোনও আশ্রয়স্থল নেই। সেজন্য বর্তমান সরকার কিছু কিছু বজ্রপাত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। যার ফলে অল্প সময়ের নোটিশে তারা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। আমরা ধারণা করছি, সমুদ্রের পানি এক মিটার বেড়ে গেলে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী ১৬ শতাংশ স্থান প্লাবিত হবে। যার ফলে প্রায় ৩ কোটি মানুষ আক্রান্ত হবে। আমাদের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে। এত বিশাল জনগোষ্ঠীকে কোথাও সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই বিশ্ব জলবায়ু মোকাবিলা এখনই করতে হবে। আমরা নানাভাবে এটি মোকাবিলা করতে পারি। আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করতে পারি। এগুলো ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা দিতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলইট-১ পুরোপরিভাবে চালু হলে ছয় মাস পর থেকে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম আভাস পাবে।’ পটুয়াখালী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ষার পানি আটকাতে ৬০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ৩০ বছর সময়ের মধ্যে জাতিসংঘ এবং বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে জাপানি প্রযুক্তি দ্বারা ‘বে ক্রস ড্যাম’ নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি।
আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. ওয়ালিউল্লাহ সিকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর, ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী মো. নূরুজ্জামান এবং সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন (শীবলু)।








