বাজারে পাওয়া যায় এমন সব ব্রান্ডের পাস্তুরিত দুধের মান পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটিকে আরও এক মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রতিবেদন দাখিলের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় আরও সময় চেয়ে আবেদন করায় এ বিষয়ে শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২৬ জুন) বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিলে আরও ছয় মাসের সময় চাওয়া হয়। তবে আদালত তাদের এক মাসের সময় মঞ্জুরের আদেশ দেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। এছাড়াও রিটকারী আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ এসময় উপস্থিত ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ।
এদিকে সময় আবেদন ছাড়াও পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি গঠনে দেরি হওয়ার বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। তিনি আদালতকে বলেন, গত ২১ জুন আদালত বাজারের সব ব্রান্ডের পাস্তুরিত দুধের মান পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের কমিটিতে সদস্যরা হলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি, ডেইরি মাইক্রোবায়োলজিস্ট, মাইক্রোবায়োলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রতিনিধি, ফুড মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবের সহযোগী গবেষক ও প্রধান ড. মো. আমিনুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি, বিএসটিআই’র বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি, ন্যাশনাল কনসালটেন্টের ডা. কুলসুম বেগম চৌধুরী, বিএসটিআই’র বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের উপসচিব আবু সহিদ ছালেহ মো. জুবেরী।
এর আগে গত ২১ মে বাজারে পাওয়া যায় এমন পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। খাদ্য মন্ত্রণালয়,স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিএসটিআইয়ের প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্ত কমিটি করে এই প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
একইসঙ্গে আদালত পাস্তুরিত দুধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সেই রিপোর্টও এক মাসের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি পাস্তুরিত দুধের নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা দিতে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন আদালত।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, খাদ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক, আইসিডিডিআরবি এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে ৪ সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তানভির আহমেদ।
পরে তানভির আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, বাজারে পাওয়া যায় এমন পাস্তুরিত দুধ নিয়ে গত ১৭ মে বিভিন্ন পত্রিকায় ও এর আগের দিন অনলাইনে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো আদালতে নজরে আনা হলে আদালত এ বিষয়ে রিট আবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ মে হাইকোর্টের রিট করা হয় এবং এর ওপর শুনানি হয়। এরপর এ বিষয়ে আদালত আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৭ মে ‘পাস্তরিত দুধের ৭৫ শতাংশই নিরাপদ নয়’ সংশ্লিষ্ট আইসিডিডিআরবির প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাজারে পাওয়া যায় এমন পাস্তুরিত দুধের ৭৫ শতাংশ অনিরাপদ। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন কোম্পানির দুধের নমুনা পরীক্ষা করে তাতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পেয়েছেন। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, মানুষ যেন দুধ কেনার পর ফুটিয়ে পান করেন।
আইসিডিডিআরবি’র বিজ্ঞানীরা দেশের ৪৩৮টি কাঁচা দুধের নমুনা এবং বাণিজ্যিকভাবে প্রক্রিয়াজাত দুধের ৯৫টি নমুনা সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করেন। এই গবেষণা ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ফুড মাইক্রোবায়োলজিতে ছাপা হয়। সেখানে শিশুদের পুষ্টির প্রাথমিক উৎস এই দুধ নিয়ে গবেষণা ফলাফলকে আইসিডিডিআরবি ‘অপ্রীতিকর’ বলে বর্ণনা করা হয়।
এ সংক্রান্ত আগের খবর: বাজারের ৭৫ শতাংশ দুধেই জীবাণু








