রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে মিয়ানমার সরকার এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউএনডিপি ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মধ্যে গোপন সমঝোতা স্মারক সইয়ের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ নিজেদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এই সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে তারা।
সোমবার (৯ জুলাই) টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ মনজুর-ই-আলমের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়েছে।
গোপনে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া তথ্যমতে, ওই সমঝোতা স্মারক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির পূর্বশর্ত হিসেবে নিজ দেশে স্বাধীনভাবে চলাচল ও ‘মিয়ানামারের স্বাধীন নাগরিক’ হিসেবে তাদের অধিকার লাভের ন্যায্য দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এ ধরনের চুক্তি বাস্তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনাকে পদদলিত করে তাদের চিরতরে বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়।’
তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে এই গোপন সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না করায় প্রত্যাবাসনসহ সার্বিকভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর নির্যাতন বিষয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, যা মিয়ানমারে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি’র সাম্প্রতিক বক্তব্যেও প্রতিফলিত হয়েছে।’
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, “সম্পাদিত এই গোপন সমঝোতা স্মারক এবং তা প্রকাশে লুকোছাপা ও গড়িমসি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সফরে জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও পরস্পরবিরোধী; যেখানে তিনি ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের আদি নিবাসী’ উল্লেখ করে অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে তাদের যথাযোগ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে নেওয়ার এবং সংঘটিত অপরাধের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।’
জাতিসংঘকে উদ্দেশ্য করে করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের মতো জাতিগত নিধনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার না করে নীরব দর্শকের ভূমিকায় থেকে বরং বাস্তবে নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে পুঁজি করে অর্থ সহায়তার সুবিধা অন্বেষণ জাতিসংঘের উদ্দেশ্য কিনা, এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। জাতিসংঘের উচিত এসব প্রশ্নের উত্তরসহ মিয়ানমারের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও এরই মধ্যে গোপন করা বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন অবিলম্বে প্রকাশ করা।’








