রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে শিশু সানজিদা আক্তারকে (১০) হত্যার অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার হয়েছে শিক্ষক দম্পতি। যদিও ঘট্নার পর থেকেই সানজিদার পরিবার ওই দম্পতির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করে আসছিল। তবে ওই দম্পতি একে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর ময়নাতদন্ত রিপোর্টে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়ার পর শুক্রবার (২০ জুলাই) যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ওই শিক্ষক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার হওয়া শিক্ষিকা নুসরাত জাহান মনি ও তার স্বামী মোরশেদ আলমকে যাত্রাবাড়ী থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
গত ২১ এপ্রিল উত্তর যাত্রাবাড়ীর স্কুল শিক্ষিকা নুসরাত জাহান মনির বাসায় (বিবির বাগিচার ২ নং গেটের ৭২/২/২- এম বাসা) অন্য শিশুদের সঙ্গে পড়তে যায় সানজিদা। ওই দিন নুসরাতের শোওয়ার ঘরে ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় সানজিদার লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর সানজিদার পরিবার হত্যার অভিযোগ করলেও নুসরাত ও তার স্বামী মোরশেদ দাবি করেন, সানজিদা খেলতে গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে ফাঁস লেগে মারা যায়। ঘটনার দিন যাত্রাবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা (ইউডি) হয়।
সানজিদার লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে গত ২৩ এপ্রিল সানজিদার লাশ তার বাবা গাড়িচালক মো. শাহজাগান ও মা জান্নাতি বেগম তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নিয়ে যান। সেখানেই লাশ দাফন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সানজিদার লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট যাত্রাবাড়ী থানায় পৌঁছায়। এতে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত মিলেছে বলে জানিয়েছেন ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী। এরপর ওই দম্পতিকে তাদের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সানজিদার বাবা শাহাজাহান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই এ বিষয়ে অভিযোগ করে আসছি। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’
এলাকাবাসী জানান, স্কুল শিক্ষিকা নুসরাত বিবির বাগিচার ভাড়া করা বাড়ির ৫ম তলায় থাকেন। ওই ফ্ল্যাটে এলাকার অনেক শিশুকে পড়ান। সানজিদাও ওই বাসায় গিয়ে পড়তো।
ডিএমপির ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়েছি। সেখানে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা বলা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল। আমার এখন হত্যা মামলা নেবো।’ তিনি জানান, ধর্ষণের বিষয়ে ফরেনসিক রিপোর্ট আসার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








