২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য তিন হাজার ৫৯৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বুধবার (২৫ জুলাই) দুপুরে নগর ভবনের ব্যাংক ফ্লোর মিলনায়তনে এই বাজেট ঘোষণা করেন ডিএসসিসি’র মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে তিন হাজার ৩৩৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বাজেট দিয়েছিল ডিএসসিসি। এরমধ্যে দুই হাজার ১৪ কোটি ৭৩১ লাখ টাকার বাজেট বাস্তবায়ন হয়।
এবারের বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের চেয়ে ১৫৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা কমিয়ে ধরা হয়েছে ৯০৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে যা ছিল এক হাজার ৬৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। রাজস্ব আদায় ছিল লক্ষ্যের অর্ধেকেরও কম, ৪৫৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
বাজেটে সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তামূলক প্রকল্প থেকে দুই হাজার ৫৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, সরকারি মঞ্জুরি (থোক) থেকে ৭০ কোটি টাকা, সরকারি বিশেষ মঞ্জুরি ৪৩৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তামূলক প্রকল্প থেকে দুই হাজার ৪৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা আয় ধরা হয়েছে।
এবারের বাজেটে মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৮৬০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। পরিচালন ব্যয় ৬১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় ৩০ কোটি টাকা।
নতুন বাজেট সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘আমরা এবারই প্রথমবারের মতো নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছি। তা হলো—এখন থেকে কবরস্থান ও শ্মশানে শেষকৃত্য হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। শেষকৃত্যের ব্যয়ভার সিটি করপোরেশন বহন করবে। এটা আগামী পহেলা আগস্ট থেকে চালু হবে। এছাড়া, আমরা একটি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি, যেখানে বয়োবৃদ্ধের থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থাই সিটি করপোরেশন করবে।’
২০১৮-১৯ বাজেটে সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ৭৪২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় করবে ডিএসসিসি। শিশুপার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়নে ১৪৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরেছে ডিএসসিসি।
এছাড়া, এবারের বাজেটে ৩৪০ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বাবদ, ভৌত অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ৩৯৫ কোটি ২৬ লাখ, মশক নিয়ন্ত্রণে ২৬ কোটি, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম বাবদ ৭৫৬ কোটি ১৬ লাখ, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বাবদ ৬ ছয় কোটি ৫০ লাখ, নতুন বাজার নির্মাণ বাবদ ২০০ কোটি, জবাইখানা নির্মাণ বাবদ ৬৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, সচিব শাহাবুদ্দিন খান প্রমুখ।








