দাম্পত্য সম্পর্ক উন্নয়নে ধ্রুব (১২) ও লুব্ধকের (৯) বাবা মেহেদী হাসান ও মা কামরুন নাহার মল্লিকাকে পুনরায় ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মেহেদী হাসান ও কামরুন নাহার মল্লিকার দাম্পত্য সম্পর্কে কী অগ্রগতি হয় তা আদালতকে জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়। তবে এ সময়ের মধ্যে শিশু দু’টি তার মায়ের কাছে থাকবে এবং মেহেদী হাসান চাইলে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন বলেও নির্দেশ দেন আদালত।
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে বুধবার (১ আগস্ট) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টে বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে শিশুদের মা কামরুন নাহার মল্লিকার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন এ কে এম রিয়াদ সলিমুল্লাহ। অন্যদিকে, মেহেদী হাসানের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল।
শুনানিতে মেহেদী হাসানের আইনজীবী তাপস কান্তি বল শিশু দু’টির বাবা-মায়ের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন। অন্যদিকে, কামরুন নাহারের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজলও শিশুদের বাবা-মায়ের মধ্যে সম্পর্কন্নোয়ন হয়েছে বলে আদালতকে জানান। তবে মেহেদী হাসান ও মা কামরুন নাহার মল্লিকার মধ্যে সমঝোতার জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলেও আদালতকে জানান আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এরপর আদালত মেহেদী হাসান ও কামরুন নাহার মল্লিকাকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেন। একইসঙ্গে এই সময়ের মধ্যে তাদের সম্পর্কের অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, ২০০২ সালে কামরুন্নাহার মল্লিকা ও মেহেদী হাসান বিয়ে করেন। এরপর তাদের কোলজুড়ে আসে দু’টি ছেলে সন্তান। বড় ছেলে মিয়া মো. সালিম সাদমান ধ্রুবের বর্তমান বয়স ১২ বছর ও ছোট ছেলের মিয়া মো. সাদিক সাদমান লুব্ধকের বর্তমান বয়স ৯ বছর। তারা যথাক্রমে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।
দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহের জেরে ২০১৭ সালের ১২ মে কামরুন্নাহার মল্লিকা ও মেহেদী হাসানের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে শিশু দু’টি বাবার তত্ত্বাবধানে তার ফুফুর কাছেই থাকতো।
গত ২৯ মে দুই সন্তানকে নিজের কাছে নেওয়ার জন্য আদালতে রিট দায়ের করেন কামরুন নাহার। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে দুই সন্তানকে কেন মায়ের হেফাজতে দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। একইসঙ্গে দুই শিশুকে আদালতে হাজির করতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও শিশু দু’টির বাবাকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সে নির্দেশ অনুসারে তাদের গত ২৫ জুন আদালতে হাজির করা হয়।
সেদিন (২৫ জুন) দীর্ঘ একবছর পর মাকে দেখতে পেয়ে তার কাছে ছুটে যায় ধ্রুব ও লুব্ধক। এরপর তারা কান্নায় ভেঙে পড়ে। এরপর তারা তাদের বাবা-মাকে পরস্পরের চোখের দিকে তাকিয়ে স্যরি বলতে অনুরোধ করে। এমনকি, বাবা-মাকে মিলিয়ে দিতে বিচারপতিদের কাছেও তারা আরজি জানায়। ধ্রুব ও লুব্ধকের কান্না ও আচরণে এজলাসের পরিবেশও আবেগঘন হয়ে ওঠে। এসময় আদালতের বিচারপতি, আইনজীবী ও উপস্থিত সাংবাদিকদের চোখ দিয়েও পানি গড়াতে থাকে।
এরপর আদালত তার আদেশে বলেন, ৪ জুলাই পর্যন্ত শিশু দু’টি মায়ের হেফাজতে থাকবে। তবে এই সময় বাবা তাদের দেখাশোনা করার সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে আজ (বুধবার) আদেশের পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন আদালত। এর প্রেক্ষিতে আদালতে আজ মেহেদী হাসান ও মা কামরুন নাহার মল্লিকা তাদের সন্তানসহ উপস্থিত হন।








