জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের কোনও বাস বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাস্তায় নামেনি। বাসগুলোকে রাখা হয়েছে রাজধানীর মিরপুর ও আগারগাঁওয়ে। অবশ্য ১ আগস্ট (বুধবার) জাবালে নূর পরিবহনের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ বাতিল করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
জানা গেছে, দুটি রুটে যাত্রী পরিবহন করতো জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের বাসগুলো। রুট দুটি হলো আগারগাঁও থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং মিরপুর-১-এর আনসারক্যাম্প থেকে বাড্ডা নতুন বাজার।
রাজধানীর আগারগাঁও ও মিরপুরে দেখা গেছে, জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের বাসগুলো সড়কের পাশে রাখা রয়েছে। তবে মিরপুরের চেয়ে বেশি বাস রয়েছে আগারগাঁওয়ে। কমপক্ষে ৩০টি বাস রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে সেখানে। তবে জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের কোনও কর্মকর্তাদের দেখা যায়নি। বেশি কিছু শ্রমিককে অবশ্য দেখা যায় সেখানে।
আব্দুল্লাহ নামের এক পরিবহন শ্রমিক জানান, তিনি জাবালে নূর পরিবহনে কাজ করতেন। তবে দুর্ঘটনার পর থেকে বাসগুলো বন্ধ রয়েছে। এসব বাস নিয়ে কী হবে তা এখনও মালিকরা সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে নতুন বা পুরাতন কোনও কোম্পানির ব্যানারে বাসগুলো নামানো হতে পারে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর সড়কগুলো পরিবহনশূন্য হয়ে পড়েছে। কর্মব্যস্ত দিনে যেসব মহসড়ক যানজটে স্থবির হয়ে থাকে, সেসব সড়ক প্রায় ফাঁকা। গণপরিবহন আছে হাতে গোনা। বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা কাজল বলেন, একের পর এক গাড়ি ভাঙচুর ও চালকদের ওপর হামলায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এ কারণেই তারা সড়ক থেকে গাড়ি প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানবন্দর সড়কের র্যা ডিসন হোটেলের বিপরীতে কালশী থেকে বিমানবন্দরগামী জাবালে নূর পরিবহনের একাধিক বাস প্রতিযোগিতা করে যাত্রী তুলতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল করিম রাজু নিহত হন। আহত হন অন্তত ১২-১৩ জন শিক্ষার্থী।
এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করাসহ দুই সতীর্থের ‘হত্যার’ বিচারসহ নয় দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) পঞ্চম দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নিয়েছেন তারা। রাজধানীর আসাদগেট, সায়েন্সল্যাব, ফার্মগেট ও মৌচাক এলাকার রাস্তাও অবরোধ করা হয়েছে। তারা রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র ও চালকদের লাইসেন্স চেক করছে।








