‘যারা তুলে নিয়ে গেছে তারা অফিসিয়ালি আমায় কিছু বলেননি। কোন তথ্যও দেওয়া হয়নি। আমি সত্যিকার অর্থেই জানতে চাই, তার কী অপরাধ?’ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডির দৃক গ্যালারিতে শহিদুল আলমকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ এ কথা বলেন। এদিকে ব্রিফিং শেষ হওয়ার পরই ডিবি অফিস থেকে রেহনুমা আহমেদকে ফোন দিয়ে ডাকা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন ‘‘যেকোনও নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়ার আইনি বৈধতা রয়েছে। আর এর প্রয়োগ ঘটিয়েই রাত ১০টার কিছু পরে তুলে নেওয়া হয়েছে। কাউকে কিছু বলছে না, জানাচ্ছে না। আমরা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না শহিদুল কোথায়? আমি রাত একটার পর ধানমন্ডি থানা থেকে ডিবি অফিসে গিয়েছি, কিন্তু সেখানে গেটে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘ভেতরের কারও কোনও তথ্য বাইরে দেওয়ার নিয়ম নেই আমাদের। অফিসাররা সকাল ১০টার দিকে আসবেন, তখন জানতে পারবেন।’ আমি সকালে দেখলাম একটা গাড়িতে করে তাকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে কোথায় নেওয়া হচ্ছে আমরা এখনও জানি না।’’
তিনি বলেন, ‘বাসার চতুর্থ তলায় ছিলাম আমরা। রাতে দারোয়ানকে ডিবি পরিচয় দিয়ে ঢুকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় বাড়ির সিসি ক্যামেরা স্কচটেপ দিয়ে পেঁচানো হয়। দারোয়ানকে বেঁধে ফেলা হয়।’ রেহনুমা বলেন, ‘আমরা রাতে থানায় গেলাম কিন্তু থানা মামলা নেয়নি। একটা লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসি।’
আনু মোহাম্মদ বলেন, ‘এভাবে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটছেই। আমরা শহিদুল আলমকে পাচ্ছি, কিন্তু অনেকের বিষয়ে স্বীকার করাও হয়নি। বাড়ির সিসিটিভি ভেঙে ফেলেছে। গার্ডকে বেঁধে রেখেছে। নিয়ে যাওয়ার সময় বাহিনীর পরিচয় দেওয়া যাবে না? আপনারা তো চাইলেই যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। তাহলে এমন আচরণ কেন? কেন এত মিথ্যা বলেন? ক্রসফায়ার ও গুম নিয়ে কী করছেন? সংবিধান তো মানছেন না। কেন এই মিথ্যাচার? সরকার নাগরিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এত ভয় কিসের? কেন এই ক্যামেরা ভীতি? হেলমেট পরে, রামদা নিয়ে বাচ্চাদের ওপর হামলা করে লাভ কী? এই ক্ষোভটাকে তো মুছে ফেলতে পারবেন না।’ তিনি অবিলম্বে শহিদুল আলমের মুক্তি দাবি করে সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘দমন-পীড়ন বন্ধ করুন। নিজেদের যা ক্ষতি করেছেন, সেখান থেকে বেরিয়ে আসুন।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি বলেন, ‘চলমান আন্দোলনের ন্যায্যতা স্বীকার করলেও দমন-পীড়ন ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। আজ জনগণের ওপর যে নির্যাতন শুরু হয়েছে, তা বন্ধ করুন।’
এনজিও কর্মী শিরিন হক বলেন, ‘আমি কিছু বলতে পারছি না। আমার তো মনে হয় না যা হচ্ছে সেটা দেশের বা সন্তানের ভালো হচ্ছে। ওর আল জাজিরার সাক্ষাৎকারটা নাকি খুব আপত্তিকর তাই ওকে তুলে নেওয়া হয়েছে। আমি সাক্ষাৎকারটা শুনলাম। সেখানে বিশ্লেষণ ছিল। এখন কেউ কি কোনও বিশ্লেষণ করতে পারবে না? তাহলেও গ্রেফতার করা হবে? তাকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে চাই। দেশে শান্তি থাকুক সেটাই চাই।’
শহিদুল আলমের বোন ড. কাজী নাজমা করিম বলেন, ‘আমরা ধারণা করতে পারছি না, তার অপরাধ কী? আল জাজিরায় তার বক্তব্য আমি রাতেই দেখেছি। সেখানে তিনি বর্তমান অবস্থার সত্যচিত্র তুলে ধরেছেন। এটা দোষের কী হলো?’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন খুশী কবীর ও শিরিন আহম্মেদ।








