‘সড়ক পরিবহন আইনে (২০১৮) শুধু চালক-মালিকদের নয়, পথচারী, সড়ক পরিকল্পনা ও মেরামতকারীদেরও শাস্তির আওতায় আনা দরকার বলে মত দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। শনিবার (১১ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে 'গণপরিবহনের অব্যবস্থাপনা ও সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ পর্যালোচনা' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা।
এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮- এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ১৬টি দাবি জানিয়েছে ফাউন্ডেশন যার মধ্যে পরিবহন ব্যবস্থাপনা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, পরিবহন শ্রমিকের মজুরি, কর্মঘণ্টা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং সড়ক দুর্ঘটনায় সাজার মেয়াদ আরও বাড়ানো উল্লেখযোগ্য।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ শরীফ বলেন, দেশের গণপরিবহনের নৈরাজ্যের দায় বিআরটিএ এড়াতে পারে না। একই সঙ্গে বিআরটিএ’র লোকবল ঘাটতিও একটা বড় কারণ। এ সময় তিনি বিআরটিএ’র অনুমোদিত পদ ও বর্তমান লোকবলের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘বিআরটিএ’র অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৮২৩। এর মধ্যে পরিদর্শক ও সহ-পরিদর্শক পদ ৪০০টি। কিন্তু বাস্তবে ২৫০টি পদ শূন্য রয়েছে। সারা দেশে বিআরটিএ’র কর্মকর্তার সংখ্যা মাত্র ৫৫০ জন। আর দেশে ২০ ধরনের যানবাহনের সংখ্যা ৩৬ লাখ। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, একজন ব্যক্তি গড়ে ৫ হাজার গাড়ির তদারক করছেন।’ এই খাতে লোকবল বাড়ানোর সুপারিশ করেন তিনি।
ঢাকা মহানগরীতে রাস্তার পরিমাণ মূল আয়তনের মাত্র ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। গণপরিবহনের তুলনায় ব্যক্তিগত গাড়ি ৩৩ শতাংশ বেশি। বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত আইনে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য পৃথক লেনের সুপারিশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এছাড়া পরিবহন ব্যবস্থাপনা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, পরিবহন শ্রমিকের মজুরি, কর্মঘণ্টা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সড়ক দুর্ঘটনায় সাজার মেয়াদ আরও বাড়ানোসহ ফাউন্ডেশনটির পক্ষ থেকে মোট ১৬টি দাবি জানানো হয়। এগুলো সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮- এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি বলে মনে করে ফাউন্ডেশন।
এছাড়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, পরিবহন মালিকদের সঙ্গে সরকারের একটা সম্পর্ক আছে। যার ফলে ২০০৮, ২০১১ ও ২০১৬ সালে বারবার চেষ্টা করেও গণপরিবহন আইন সংশোধন করা সম্ভব হয়নি। চালকদের শাস্তির ব্যাপারটা পরিবহন মালিকদের দ্বারা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। স্বৈরাচারি সরকার এরশাদের করা ১৯৮৩-এর পরিবহন আইন সামান্য পরিবর্তন করে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থা চলছে, যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন জরুরি। তাই গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে নতুন আইনটির সংশোধনী চেয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
গণপরিবহনে নৈরাজ্যের জন্য কেবল চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরাই দায়ী নয়, সাধারণ মানুষও আইনের তোয়াক্কা করেন না। সাধারণ মানুষের জন্যও আইনের বিধান থাকা দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্সিডেন্ট এবং রোড সেফটি বিভাগের শিক্ষক শাহ নেওয়াজ হাসনাত-ই-রাব্বি। তিনি বলেন, চালককে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার কথা বলা হচ্ছে, একই সঙ্গে পথচারীদের জন্যও সে নিয়ম থাকতে হবে। পথচারীবান্ধব সড়ক তৈরির বিষয়েও খসড়া আইনে কিছু বলা হয়নি। সড়ক মেরামত ও পরিকল্পনাকারীদেরও সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়বদ্ধ করা উচিত। তাদেরও জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যারা অনুসন্ধান করবেন তাদের সে যোগ্যতা থাকতে হবে। যারা দায়িত্বে থাকবেন তারা যদি গাফিলতি করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন কিছু খসড়ায় বলা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যরিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রমুখ।








