ঈদের আনন্দ ফিরে এলো ৭৬ শিক্ষার্থীর পরিবারে

তোফায়েল হোছাইন
২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৪২আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৮, ১০:০১




আদালতে গ্রেফতার ছাত্রদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা

অবশেষে কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার পথ খুলে গেলো। তাদের পরিবারের অশ্রুসিক্ত সদস্যদের মুখে হাসি ফুটেছে। গতকাল রবিবার ও আজ সোমবার— এ দুই দিনে জামিনে মুক্তি মিলেছে ৭৬ জন শিক্ষার্থীর। ঈদুল আজহার বাকি মাত্র একদিন। এটাই ছিল তাদের জামিনে মুক্তির প্রধান কারণ। আর তাই ঈদের আনন্দও ফিরে এলো তাদের পরিবারে।
আদালত সূত্রে জানা যায়,নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় ভাঙচুর,পুলিশের কাজে বাধাসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ঢাকা মহানগরের ৯টি থানায় ১২টি মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৫৬ জন শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তারা সবাই বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। গতকাল রবিবার ও আজ সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের ভিন্ন ভিন্ন বিচারক তাদের জামিনের আদেশ দেন।
কোটা সংস্কার দাবির আন্দোলনে গ্রেফতার ২০ শিক্ষার্থীরও জামিন দিয়েছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের একাধিক বিচারক শুনানি শেষে তাদের জামিনের আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: 

শেষ বেলায় আরও ১৭ শিক্ষার্থীসহ ৪২ জনের জামিন


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষার্থীর জামিন

আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উপাচার্যের বাসায় হামলা-ভাঙচুর, পুলিশকে মারধর,তাদের কাজে বাধা ও ওয়াকিটকি ছিনতাইয়ের অভিযোগ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা রমনা ও শাহবাগ থানার পৃথক পাঁচ মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল।
অবশ্য কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুক লাইভে কটূক্তি করার অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে। তাকে এ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। রাশেদই এ মামলার একমাত্র আসামি। তাকেও জামিন দিয়েছেন আদালত।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবিতে আর কতজন শিক্ষার্থী কারাগারে আছে? জানতে চাইলে আদালতের উপ পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক ও কোটা আন্দোলনের আর কোনও শিক্ষার্থী, আমার জানামতে, কারাগারে নেই। গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থীরা জামিন পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা জামিনের আবেদন করেছেন আদালত সবার জামিন দিয়েছেন।’
গত ২৯ জুলাই রাজধানীতে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিম রাজীব নিহত হন। এ ঘটনার জেরে ঘাতক বাসচালকের শাস্তি ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের দুই দিনের মাথায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। তবে কোটা বাতিলের এ ঘোষণা সত্ত্বেও তা গেজেট আকারে প্রকাশ না করায় পরে আবার আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তখন বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

/এইচআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম