রাজধানী ঢাকায় প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ পশু কোরবানি হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এ হিসাবে কোরবানির বর্জ্য হবে কমপক্ষে ৪০ হাজার টন। এ পরিমাণ বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে মাঠে নেমেছে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি)। সংস্থা দু’টি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে। এজন্য নির্ধারিত পরিচ্ছন্নকর্মী বাহিনীসহ মোট ২১ হাজার কর্মী মাঠে রয়েছে। পাশাপাশি সংস্থা দুটির শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
ডিএসসিসি সূত্র জানিয়েছে, সংস্থাটি এ বছর তার এলাকায় দুই লাখ ৯৪ হাজার কোরবানি পশু জবাইয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ থেকে প্রায় ২৫ হাজার টন বর্জ্য অপসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য সংস্থার নিয়মিত কর্মীসহ মোট ১১ হাজার ২৭২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করছেন। এছাড়া সংস্থার ১৫টি হাট পরিচ্ছন্নতায় আরও দুই হাজার ১৯ জন ক্লিনার এবং প্রাইমবার কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডরের (পিসিএসপি) তিন হাজার কর্মী কাজ করছে।
পুরো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজে ৩৫০টি কন্টেইনার, ৪টি ট্রেইলার, ৯০টি কন্টেইনার ক্যারিয়ার, ৫৩টি ডাম্প ট্রাক, ৫৩টি কম্প্যাক্টর, ১২৫টি ওপেন ট্রাক, ১১টি পে-লোডার, ১৬টি পানির গাড়িসহ অন্যান্য গাড়ি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কাজ মনিটরিং করছেন ৩৭ জন কর্মকর্তা। এছাড়া সংস্থার ৯ জন বিভাগীয় কর্মকর্তাও সার্বিক মনিটরিং করছেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পুরো কাজ সরাসরি মনিটরিং করার জন্য অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে ‘লাইভ মনিটরিং সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে।
সংস্থাটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ দিনে দুই হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার টন বর্জ্য উৎপাদন হয়। কোরবানির সময় এ সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজার টনে। এর পরও নগরীর কোথাও কোনও বর্জ্য পড়ে থাকলে ডিএসসিসি নির্ধারিত হট লাইনে (নম্বর ০৯৬১১০০০৯৯৯) ফোন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সচেতনতার জন্য মাইকিং, লক্ষাধিক লিফলেট ও পলিব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।
ডিএসসিসি‘র অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খোন্দকার মিল্লাদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্জ্য অপসারণে আমাদের ১১ হাজার ২৭১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাঠে রয়েছে। আমরা গতকাল রাত থেকে কোরবানি পশুর হাট পরিষ্কার শুরু করি। অনেক কাজ এগিয়ে গেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই আমরা সব কাজ শেষ করে ফেলবো।’
ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বুধবার দুপুরে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন কলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে ডিএসসিসির নিয়মিত তিন হাজার ১০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৩০০ জনের মতো মশকনিধনকর্মীসহ মোট সাড়ে ৯ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী মাঠে রয়েছে।
সংস্থাটির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আবুল হাসনাত মো. আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার পরিচ্ছন্নতা-কর্মী মাঠে নেমেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সব বর্জ্য অপসারণের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে রেখেছি।’
তিনি জানান, বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসিতে বর্জ্যবাহী ট্রাক ১৫০টি, ডাম্প ট্রাক ১৯টি, পাঁচটি পে-লোডার, তিনটি হুইল ডোজার, ১১টি পানির গাড়িসহ অন্যান্য গাড়ি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্জ্যবাহী ব্যাগ থাকবে ৪ লাখ পিস, ব্লিচিং পাউডার ৪০ হাজার কেজি, স্যাভলন ১০০ লিটার ও ফিনাইল ২০০ লিটার বিতরণ করা হয়েছে। কিছু যন্ত্রপাতি ভাড়াও নেওয়া হয়েছে।
আশরাফুল ইসলাম জানান, ডিএনসিসি’র অঞ্চল-৩-এ (মহাখালী) অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হচ্ছে। হটলাইন নম্বর হলো ০২৯৮৩০৯৩৬। এর বাইরে পাঁচটি অঞ্চলে মোবাইল নম্বর সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। নম্বরগুলো হলো উত্তরা ০১৭১৭১০২০২৫, মিরপুর ০১৭১১-৩১৩২৮৯, মহাখালী ০১৯২৩১১৩৬৩৬ মিরপুর (অঞ্চল-৪) ০১৭৩৩৮৯৫৫৩২ ও কাওরান বাজার ০১৭১১৫৭৭৪৭৪।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার সময় একযোগে দুই সিটি করপোরেশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে।








