আল মারকাজুল থেকে হাওয়া ভবনে যাওয়া পর্যন্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দ ঢালাওভাবে অভিযোগ এনেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাবরের আইনজীবী নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটা প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। তাই ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রীকে শাস্তি দেওয়া সমীচীন হবে না।’ মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) নাজিম উদ্দিন রোডের পুরান ঢাকায় অবস্থিত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘বর্বরোচিত এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায় এড়াতে পারেন না।’
মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় এ আদালতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুর আড়াইটায় এ ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন বুধবার (২৯ আগস্ট) পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম মুলতবি করেন। বুধবারও বাবরের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন তার আইনজীবী নজরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সপ্তম দিনের মতো সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে গিয়ে নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘লুৎফুজ্জামান বাবর স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায়ই হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানকে গ্রেফতার করা হয়। তার নির্দেশেই তখন পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে মুফতি হান্নানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহতদের সুচিকিৎসা যেন নিশ্চিত হয়, সেই ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। এতেই প্রমাণিত হয়, লুৎফুজ্জামান বাবর দায়িত্ব এড়াননি। তিনি ষড়যন্ত্র করেননি।’
উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট মতিঝিল থানার এসআই শরীফ ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা (নং-৯৭) দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ৯ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে সিএমএম আদালতে দু’টি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন সিআইডির সিনিয়র এএসপি ফজলুল কবির। ওই বছরই মামলা দু’টির কার্যক্রম দ্রুত বিচার আদালত-১ এ স্থানাস্তর করা হয়। এ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের ২৯/১১ (হত্যা),ও ৩০/১১ (বিস্ফোরক) মামলা দু’টির বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর ২০০৯ সালের ২৫ জুন এ মামলার অধিকতর তদন্তের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। ওই বছরের ৩ আগস্ট আদালত অধিকতর তদন্তের আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ আরও ৩০জনকে অভিযুক্ত করে ২০১১ সালের ২ জুলাই আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন আবদুল কাহার আকন্দ। অধিকতর তদন্তে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) পাশাপাশি হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতাও খুঁজে পান তিনি।








