হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা এক নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে বিমানবন্দরের তিন তলায় টয়লেটে তিনি কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। দ্রুত উদ্ধার করে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।
তার নাম রুনা লায়লা (২৪)। বাবা মৃত আজাহার আলী ও মা জমিলা খাতুন। তারা সাভারের জিরানিতে থাকেন।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. তাহমিনা ভূইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই নারী দুপুর ২টার দিকে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তার সঙ্গে কোনও আত্মীয়-স্বজন ছিল না। তাকে বিমানবন্দরের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’ পরে ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঢামেকে তাকে নিয়ে আসা শেখ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটি বিমানবন্দরে বাথরুমে কীটনাষক পান করেন। পরে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানের চিকিৎসা শেষে তাকে সেইফ হোমে নিয়ে যাবো।’
কীটনাশক পান রুনা লায়লা সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০১৬ সালের ১৭ মার্চ সৌদি যাই। সেখান থেকে গত ২৮ জুলাই দেশে আসি। সেদিন আমার লাগেজ পাইনি। সেটা আনার জন্য মঙ্গলবার বিমানবন্দরে যাই। সেখানে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে কোনও লাভ হয়নি। লাগেজটি আর পাইনি। সৌদিতে গিয়ে সেখানে এক বাসায় কাজ করে ৮ মাস বেতন পাইনি। পরে সৌদি বাংলাদেশি অ্যাম্বাসিতে যাই। সেখানে লোকমান নামে এক স্টাফ আমাকে সহযোগিতা করেন। আমাকে বিয়ের কথা বলে বিভিন্নভাবে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেন। দৈহিক সম্পর্কও করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার লাগেজটি সেখান থেকে বুকিং দেওয়া হলেও বাংলাদেশে এসে পাইনি। সেখানে প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কীটনাশক পান করেছি। একটি কাগজে লিখে ছিলমাম- আমি যদি মরে যাই, তাহলে আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী লোকমান ও গোলামসহ ৩-৪ জন।’








