পৃষ্ঠপোষকের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মন্ত্রিসভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮

জামাল উদ্দিন ও শেখ জাহাঙ্গীর আলম
২৯ আগস্ট ২০১৮, ০২:২৫আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৮, ০৭:৪৩

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর

পৃষ্ঠপোষক, মদদদাতা, অর্থ যোগানদাতা ও প্ররোচনাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আওতায় রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ পাশ হতে যাচ্ছে। মাদক আইনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদল ও তদারকির ক্ষমতাও দেওয়া হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে। মাদকের তালিকায় না থাকলেও মাদক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন কোনও দ্রব্যকে মাদক হিসেবে ঘোষণা দেওয়ারও ক্ষমতা থাকবে তাদের। আর এই আইনের সব অপরাধই হবে আমলযোগ্য। এভাবেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর খসড়া চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আইনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য অধিদফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, দেশে বর্তমানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে যে আইন রয়েছে, সেই আইন অনুযায়ী হেরোইন, প্যাথেড্রিন, মরফিন এবং কোকেনসহ আরও কিছু মাদকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। সংশোধিত আইনে এর পরিধি আরও বেড়েছে। সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নেশাদ্রব্য ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল সংশ্লিষ্টতাকেও রাখা হয়েছে মৃত্যুদণ্ডের তালিকায়।

এই আইনের আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বর্তমান আইনে কোনও ব্যক্তির কাছে মাদকদ্রব্য সরাসরি পাওয়া না গেলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান ছিল না। সংশোধিত আইনে তারা আর পার পাবে না। পৃষ্ঠপোষক, মদদদাতা, অর্থ যোগানদাতা ও প্ররোচনাকারী হিসেবে সংশ্লিষ্টতা পেলে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কিংবা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

তল্লাশির ক্ষেত্রেও অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিধফতরকে। কারণ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের অভিযান চালাতে হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায়। তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযানের খবর ফাঁস হয়ে যায়। সেজন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে আলাদা বাহিনী হিসেবে গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা আপাতত হচ্ছে না। তবে তল্লাশির ক্ষেত্রে মাদক অধিদফতরের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।’    

সংশোধিত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘কোনও ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ বা প্রতিষ্ঠান এই আইনের অধীনে কোনও অপরাধ সংগঠনে অর্থ বিনিয়োগ করলে বা অর্থ সরবরাহ করলে বা মদদ দিলে বা পৃষ্ঠপোষকতা করলে তিনি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নির্ধারিত দণ্ডের অনুরূপ দণ্ডনীয় হইবেন।’ এই ধারার শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘অর্থ যোগানদাতা, পৃষ্ঠপোষকতা, মদদদাতা, ইত্যাদি সম্পর্কে বিধান।’

চূড়ান্ত খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে, ‘কোনও ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনও অপরাধ সংঘটনে কাহাকেও প্ররোচনা দিলে বা সাহায্য করলে বা কাহারও সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে অথবা এই উদ্দেশ্যে কোনও উদ্যোগ বা প্রচেষ্টা গ্রহণ করলে অপরাধ সংঘটিত হউক বা না হউক, তিনি এই আইনের অধীন সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের অনুরূপ দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।’

মাদক আইনের অপরাধ তদন্তেও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে। এই সংস্থার মহাপরিচালক (ডিজি)-কে তদন্ত কর্মকর্তা, তদারক কর্মকর্তা নিয়োগ ও বদলের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে খসড়া আইনে। বলা হয়েছে, ‘এই আইনের অধীন অপরাধ তদন্তের জন্য মহাপরিচালক অধঃস্তন কোনও কর্মকর্তাকে থানার ভারপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তার ক্ষমতা প্রদান করতে পারবেন।’ অন্য এক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের কোনও নাগরিক এই আইনের অধীন বিচার্য কোনও অপরাধ বিদেশে সংঘটিত করলে এই ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোনও কর্মকর্তা বিদেশে গিয়ে সেই ঘটনার তদন্ত কাজ করতে পারবেন। তদন্তের প্রয়োজনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তিনি বিদেশি যে কোনও সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিতে পারবেন।’

এ প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ও চাহিদা হ্রাস, অপব্যবহার ও চোরাচালানসহ মাদকের ভয়াবহতা প্রতিরোধ এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন জরুরি। সেজন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ রহিত করে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করাসহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক বিধান সম্বলিত একটি নতুন আইন করা জরুরি। সেজন্যই মাদক আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে খসড়া আইনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিবেচনাধীন রয়েছে।’

 

/জেইউ/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম