শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘১৯৭০ সালের বক্তৃতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় প্রবৃদ্ধির চার শতাংশ শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ করার কথা বলেছিলেন। আমরা তা করতে পারিনি। দুই শতাংশের কিছু বেশি করতে পেরেছি। আন্তর্জাতিকভাবে ইউনেস্কোসহ পৃথিবীর অনেক দেশের ট্র্যাডিশন ছিল ছয় শতাংশ বিনিয়োগ করা। কিন্তু সব দেশ তা পারে না। সেটি সমন্বয় করার জন্য তারা এখন চার শতাংশে ফিরেছে।’ শুক্রবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বেনজীর আহমেদ ও শফিক আহমেদ সিদ্দিকি বক্তব্য দেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ। এটি দেশের জন্য লাভজনক বিনিয়োগ তা বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামান।’ শিক্ষার মান উন্নয়নে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। বাংলার মানুষের মুক্তিই ছিল জাতির পিতার জীবনের মূল লক্ষ্য ও আদর্শ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।’
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, নিপীড়ন-শোষণমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু যারা তাঁর আদর্শের শত্রু ছিল, তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এবং মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য যাতে সফল না হয় সেজন্য তাঁকে হত্যা করে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গত নয় বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। সবাইকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। প্রায় ৩৩ থেকে ৩৪ লাখ ছেলে-মেয়ে উচ্চ শিক্ষা লাভ করছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এজন্য শিক্ষার মান উন্নয়ন জরুরি। উচ্চশিক্ষার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। শিক্ষার মান উন্নযনে তাদের প্রতি নজর দিতে হবে। শুধু জ্ঞান-প্রযুক্তি আমদানি নয়, রফতানির যোগ্যতাও অর্জন করতে হবে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এজন্য মান উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও শিক্ষার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।








