৪০ কোটি ৯১ লাখ ৩শ’৭৫ টাকা পরিমাণ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বর্ণ চোরাচালানকারী হিসেবে অভিযুক্ত শেখ মোহাম্মদ আলী ওরফে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর রমনা মডেল থানায় ২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক জালাল উদ্দিন আহাম্মদ। মামলার তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) আদালতে দাখিলের জন্য অভিযোগপত্র (চার্জশিট) অনুমোদন করে দুদক।
মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১২ আগস্ট শেখ মোহাম্মদ আলী ওরফে এস কে মোহাম্মদ আলীর সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ প্রদান করে দুদক। একই বছরের ৩১ সেপ্টেম্বর তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। এতে তিনি স্থাবর সম্পদ ৪ কোটি ৮৮ লাখ ৬৬ হাজার ১৫০ টাকা ও অস্থাবর সম্পদ ২৫ কোটি ৯০ লাখ ৩০ হাজার ৪৭৩ টাকা ঘোষণা করেন।
তার দেওয়া বিবরণীর তথ্য অনুসন্ধান করে দুদক কর্মকর্তারা দেখতে পান, দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর স্থাবর অংশে মালঞ্চ কুমার পাড়া, সিলেট সদর, সিলেট (বাড়ি নং-১৩/৩, মানিকপীর রোড, কুমার পাড়া, সিলেট) ঠিকানায় মোহাম্মদ আলী শুধু জমি আছে বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে ওই জমির ওপর নির্মিত ৬ তলা ভবনটির পরিমাপ সিলেট গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীর মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। এ ভবন পরিমাপে তার নির্মাণ ব্যয় ৯৫ লাখ ১১ হাজার ৩৭৫ টাকা নির্ধারিত হয়, যা তিনি দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে (ভবন) ঘোষণা দেননি। তাছাড়া তার নামে রাজউকের পূর্বাচল নুতন শহর প্রকল্পের ১৬ নম্বর সেক্টরের ৪০১ নম্বর সড়কের ৩ নম্বর প্লটে ১০ কাঠা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এই তথ্যও তিনি সম্পদ বিবরণতে গোপন করেছেন। এই জমির দাম তিরিশ লাখ টাকা। এতে দেখা যায়, আসামি শেখ মোহাম্মদ আলী ১ কোটি ২৫ লাখ ১১ হাজার ৩৭৫ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে গোপন করেছেন। গোপনকৃত ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূতসম্পদসহ মোট ৬ কোটি ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫২৫ টাকার স্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। এছাড়া দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে এস কে মোহাম্মদ আলী তার নিজ নামে মোট ২৫ কোটি ৯০ লাখ ৪৭৩ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু তদন্তকালে প্রাপ্ত রেকর্ডমতে ৬১.৫৩৮ কেজি সোনার তথ্যও গোপন করেছেন যার মূল্য ৩০ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এছাড়াও তার কাছে পাওয়া সৌদি রিয়াল যা টাকায় ৩ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও দেশি মুদ্রা পাঁচ কোটি ৫৯ লাখ ৯০ হাজার টাকাসহ মোট ৩৯ কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে গোপন করেছেন।
দুদক জানিয়েছে, গোপনকৃত ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৩৯ কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার সম্পদসহ মোট ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪৭৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ এস কে মোহাম্মদ আলীর কাছে পাওয়া যায়। তার মধ্যে গোপনকৃত ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৯ কোটি ৬৬ লাখ৭০ হাজার টাকা।
তদন্তে দুদক কর্মকর্তারা আরও জানান, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের উপপরিচালক মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে শুল্ক গোয়েন্দা ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় চোরাচালান প্রতিরোধ টিম আসামি শেখ মোহাম্মদ আলীর (এস কে মোহাম্মদ আলী) বাসা/ফ্ল্যাট নং-৬/এ, ২৯/১, পুরানা পল্টন, ঢাকায় তল্লাশি করে। ওই তল্লাশিতে তার বাসায় ৬১.৫৩৮ কেজি সোনা যার মূল্য ৩০ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ৩ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা সমমূল্যের রিয়েল ও ৫ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। একইসঙ্গে শেখ মোহাম্মদ আলীর অন্য আরেকটি বাসা/ফ্ল্যাট নং-১১/সি, ২৯/১, পুরানা পল্টন, ঢাকায় তল্লাশি করা হয়। এসময় তার বাসায় ৫০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এই টিম তল্লাশি করে মোট ৩৯ কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের দেশি বিদেশি মুদ্রাসহ সোনার বার আটক করে ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করে।
দুদকের তদন্তে বেরিয়ে আসে মোহাম্মদ আলী গোপনকৃত ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৪০ কোটি ৯১ লাখ ৮১ হাজার ৩৭৫ টাকার সম্পদ নিজের নামে রেখে ভোগ করছেন। ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা তথ্য সম্বলিত সম্পদ বিবরণী দুদকে দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এই অপরাধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুদক।








