বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (বিআরটিসি) নিজস্ব বাস বহরের সৌন্দর্য ফেরাতে আটদিনব্যাপী ‘পরিবহন বহর দৃষ্টিনন্দন সপ্তাহ ২০১৮’ ঘোষণা করা হয়েছে। সংস্থার প্রতিটি বাসের রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি দৃষ্টি নন্দন করার লক্ষ্যে আগামী ৮ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সপ্তাহ পালিত হবে। এর মধ্যে সংস্থার সব দৃষ্টিকটূ যানবাহন মেরামত ও চলাচল উপযোগী করা হবে।
এদিকে, মহানগরীতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের পর কোনও দৃষ্টিকটূ পরিবহন রাস্তায় নামালে মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি)। বিআরটিসি’র সচিব নূর-ই-আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিআরটিসি সূত্র জানিয়েছে, ‘পরিবহন বহর দৃষ্টিনন্দন সপ্তাহ ২০১৮’ উপলক্ষে বিআরটিসি চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছেন। কর্মসূচি চলাকালে বিআরটিসির সব ডিপো ম্যানেজারের নেতৃত্বে সব কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক ও কারিগররা এ কাজে অংশগ্রহণ করবেন। কর্মসূচি চলাকালে যানবাহনের বাহ্যিক সৌন্দর্য এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, সব বাসে বিআরটিসি লেখা পুনঃস্থাপন করা, প্রতিটি বাসের সামনে এবং পেছনে ডিপোর নামের স্টিকার লাগানো, বাসের ইন্ডিকেটর লাইট, হর্ন, যাত্রী ফ্যান এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা, প্রতিটি বাসের ভাঙা গ্লাস বদল করা, ক্ষেত্র বিশেষে বাসের ডেন্টিং-পেন্টিং নিশ্চিত করা, প্রতিটি বাসে চালকের ছবি, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং মোবাইল নম্বর সম্বলিত তথ্য প্রদর্শন নিশ্চিত করা, সব বাস ডিপোর ম্যানেজার স্ব-স্ব ডিপোর দীর্ঘ মেয়াদী ইজারায় পরিচালিত যানবাহনগুলোর বর্ণিত কার্যক্রম তদারকি এবং সম্পন্ন নিশ্চিত করবেন। সর্বশেষ সপ্তাহ পালন শেষে ডিপো ম্যানেজার কতগুলো গাড়ির ডেন্টিং-পেন্টিং করেছেন, তার প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠাবেন।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া নিজেদের মেরামত যোগ্য ও দৃষ্টিকটূ বাসগুলো দেখার জন্য বিআরটিসির মতিঝিল, জোয়ারসাহারা ও নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপো পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বিআরটিসি’র অচল গাড়িগুলো সচল করার বিষয়ে ডিপো ম্যানেজারদের নির্দেশনা দেন। এছাড়া, গাড়িগুলো দৃষ্টিনন্দন করার জন্য ডেন্টিং-পেন্টিং করার নির্দেশ দেন। মেরামতযোগ্য গাড়িগুলো শিগগিরই মেরামত করে রাস্তায় নামানো হবে বলে তখন ঘোষণা দেওয়া হয়।
এদিকে, ঢাকা মহানগরীর যানবাহনের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিআরটিএ। বিআরটিএ’র পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম (ইঞ্জিন) বলেন, ‘বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ দিয়ে থাকে। বিআরটিএ হতে ফিটনেস গ্রহণের পর অনেক গণপরিবহনকে ঢাকা মহানগরীতে রঙ চটা, জরাজীর্ণ ও লক্কড়-ঝক্কড় অবস্থায় চলাচল করতে দেখা যায়। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর হতে ঢাকা মহানগরীতে রঙচটা, জরাজীর্ণ, দৃষ্টিকটূ এবং লক্কড়-ঝক্কড় মোটরযান চলতে দেখা গেলে সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’








