রাজধানীর তেজগাঁওয়ের তেজকুনীপাড়া থেকে আটক ১২ শিক্ষার্থীকে অবশেষে গ্রেফতার দেখালো মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা দুটি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান জানান, রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) ১২ জন শিবিরকর্মীকে (সবাই শিক্ষার্থী) গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলাকালে গুজব সৃষ্টিকারীদের অন্যতম মূলহোতা তারেক আজিজসহ বাকিদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে ১২ শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, তাদের আটক করা হয়েছে গত ৫ সেপ্টেম্বর। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ ছিল।
মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারেক আজিজের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় এ দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ছাত্ররা হলেন, তারেক আজিজ, তারেক, জাহাঙ্গীর আলম, মো. মোজাহিদুল ইসলাম, মো. আল আমিন, জহিরুল ইসলাম, মো. বোরহান উদ্দিন, ইফতেখার আলম, মেহেদী হাসান রাজিব, মো. মাহফুজ, সাইফুল্লাহ ও রায়হানুল আবেদিন।
তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্কুল কলেজের মনোগ্রামসহ ১২ সেট ইউনিফর্ম, ১৩টি ফিতাসহ আইডি কার্ড (গ্রেফতারকৃত ছাত্ররা কেউই ওইসব স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী নয়)), হ্যান্ডমাইক, ম্যাগনিফাইয়িং গ্লাস, হাতুড়ি, স্ক্রু ড্রাইভার, তিনটি ল্যাপটপ, ইসলামি ছাত্রশিবিরের কর্মপদ্ধতির বিভিন্ন ফরম, শিবিরের কিশোর কণ্ঠ ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন ইসলামী বই, বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে লেখা ডায়েরি ও ফেসবুকে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিওসহ ছবি উদ্ধার করা হয়।
ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘তারা গত ২৯ আগস্ট শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন উসকানিমূলক লেখা/পোস্ট/ফটো/ভিডিও’র মাধ্যমে গুজব ছড়ায়।
মাসুদুর রহমান বলেন, ‘গত ৬ আগস্ট বেলা পৌনে ১২টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাগত ছাত্ররাসহ ৪০০ থেকে ৫০০ জন আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সরকারবিরোধী বিভিন্ন উত্তেজনাকর স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা রাস্তা বন্ধ করে ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। উচ্ছৃঙ্খল ছাত্ররা পুলিশকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের ইটপাটকেলের আঘাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পিআই আবু হাজ্জাজ, এস আই ইমাম হোসেন, এএসআই আজাদ, এএসআই ইব্রাহিমসহ কয়েকজন আহত হন। ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করা ব্যক্তিদের মূলহোতা তারেক আজিজ ফেসবুক টাইমলাইনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করতো।’
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) ক্যান্টনমেন্ট জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার হান্নানুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর নিখোঁজের তিন দিন পরও সন্তানদের খোঁজ না পেয়ে রবিবার (৯ সেপ্টেবর) দুপুরে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ক্র্যাব) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিখোঁজ ১২ শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, রাজধানীর মহাখালী ও তেজগাঁও এলাকা থেকে গত বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১২ শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই দিন এই ১২ শিক্ষার্থীর সঙ্গে আরও কয়েকজনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে আনা হয়েছিল। তবে ১২ জনকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
‘নিখোঁজ’ ১২ শিক্ষার্থী ডিবি কার্যালয়ে, ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ








