আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নারী ও শিশুদের অরক্ষিত রেখে সরকারি একটি আশ্রয় কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বিরুদ্ধে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেওয়া ওই প্রতিষ্ঠানের নাম ‘সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, মিরপুর’। সমাজ সেবা অধিদফতর এই আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে।
ডিএনসিসি ও সমাজ সেবা অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কেন্দ্রটির জমি নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। আদালত এতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু গত ৯ সেপ্টেম্বর স্থিতাবস্থার সময়সীমা পেরিয়ে যায়। পরে গতকাল রবিবার ডিএনসিসি ভ্রাম্যামাণ আদালতের মাধ্যমে কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেন। এতে আশ্রয় কেন্দ্রটি অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এর ফলে কেন্দ্রটিতে অবস্থানরতরা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে সমাজ সেবা অধিদফতর।
সমাজ সেবা অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, স্বাধীনতার পূর্বে প্রতিষ্ঠিত সরকারি এ আশ্রয়কেন্দ্রটি শিয়া মসজিদ থেকে ১৯৭৭ সালে বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে এতে আদালত থেকে পাঠানো ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তিরা বসবাস করছে। আইন দ্বারা পরিচালিত এই কেন্দ্রটিতে ২০০টি অনুমোদিত নিবাসীর সংখ্যা রয়েছে। তবে বর্তমানে এতে ৩৭জন নারী ও শিশু বসবাস করছেন।
সমাজ সেবা অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে এটি ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তি (পুনর্বাসন) আইন ২০১১ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তাছাড়া এটি শিশু আইন ২০১৩ এর ৮৫ ধারা অনুযায়ী সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের প্রত্যায়িত প্রতিষ্ঠান। তবে এর ডরমেটরি ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ৫০ আসন বিশিষ্ট সেইফ হোমটির ২৫ আসন গাজীপুরের কোনাবাড়ির ‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক)’ ও বাকি ২৫ আসন গাজীপুরের টঙ্গিতে অবস্থিত ‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালিকা)’ তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এখানে আদালত থেকে পাঠানো ভবঘুরে বা নিরাশ্রয় ব্যক্তিদের অভ্যার্থনা ও নিবন্ধন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। পরবর্তীতে এখান থেকে অন্যান্য কেন্দ্রে তাদের স্থানান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে সমাজ সেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ নূরুল কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এটি একটি আইন দ্বারা পরিচালিত সরকারি প্রতিষ্ঠান। এখানে আদালত থেকে পাঠানো ভিক্টিমদের রাখা হয়েছে। এদের অরক্ষিত রেখে আদালতের নিষেধজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি সরকারি সংস্থা আরেকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলতে পারে না।’
জানতে চাইলে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজিদ আনোয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আদালতের যে স্থিতাবস্থা রয়েছে তার সময়সীমা গত ৯ তারিখে পার হয়ে যায়। আমাদের জায়গার ওপর ওদের একটি বাউন্ডারি ওয়াল ছিল। আমরা সেটি ভেঙে দিয়েছি।’
জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন খতিয়ান নং-০২ অনুযায়ী দাগ নং- ৯৫৪ এর অধীন ২৫ শতাংশ জমির ওপর সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত। এই জমির ওপর উন্নয়ন কর পরিশোধ করে আসছে সমাজ সেবা অধিদফতর। তবে এই প্রতিষ্ঠানের কোনও দলিলপত্র সরকারি এই আশ্রয় কেন্দ্রে সংরক্ষিত নেই। দীর্ঘদিন যাবত সিটি করপোরেশনের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের ৯ আগস্ট ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার জন্য উপস্থিত হন। জমি পরিমাপের কোনও আয়োজন না করেই চলতি বছরে ৯ জানুয়ারি আবারও দেয়ালটি ভাঙার জন্য উপস্থিত হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ অবস্থায় সমাজ সেবা অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, আইন দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত সরকারি এ আশ্রয় কেন্দ্রেটির সীমানা প্রাচীর ও পুলিশ ব্যারাক বিবেচনাহীনভাবে ভেঙে ফেলার কারণে নিরাপত্তাজনিত হুমকিসহ বহুবিধ সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।








