নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী কোটা সংরক্ষণে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষা, চলাফেরা, কর্মসংস্থান, চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট আইন রয়েছে। সংবিধানেও পরিষ্কার করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সুরক্ষার কথা বলা আছে।’ বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ইস্কাটনের সুইড বাংলাদেশ কনভেনশন সেণ্টারে ‘প্রতিবন্ধিতা উত্তরণে আমরা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি, আপনি বা অন্য কেউ কোনও ধরনের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারি না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ অনুযায়ী যেকোনও সরকারি নিয়োগে প্রতিবন্ধী কোটা রাখার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। যদিও বর্তমানের কোটা সংশোধন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে শতভাগ কোটা বিলুপ্তির কথা সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু এই কোটা পুরোপুরি বিলুপ্তি করতে হলে বর্তমানে বিদ্যমান প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনে পরিবর্তন আনতে হবে। এই আইন বলবৎ থাকা অবস্থায় প্রতিবন্ধী কোটা বাদ দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোটা সংরক্ষণের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জোর সুপারিশ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হাবিবে মিল্লাত প্রতিবন্ধী কোটা বহাল রাখার দাবি জানান। এ সময় কমিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয় ও সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিবন্ধী কোটা বহাল রাখার সুপারিশ করে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ সময় জানান, সরকার দেশের সকল বিল্ডিং, স্কুল, কলেজের অবকাঠামোগত পরিবর্তন এনে প্রতিবন্ধী সহায়ক করার বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি জেলা, উপজেলায় একটি করে প্রতিবন্ধী স্কুল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রস্তুত হচ্ছে।
প্রতিবন্ধীদের প্রকৃত সংখ্যা নিরুপণে দ্বিতীয়বারের মতো জরিপ কাজ পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি রাজাউল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মীর শওকত আলী বাদশা, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদা মীন আরা, সুইড বাংলাদেশের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রমুখ।








