শারদীয় দুর্গাপূজা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে নিরাপত্তা বিঘ্নের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। মঙ্গলবার (০২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ডিএমপি সদর দফতরে পূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক সমন্বয় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘পূজাকে ঘিরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সুদৃঢ়, কঠোর, নিশ্ছিদ্র ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূজা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে ছড়ানো কোনও গুজবে কান দেবেন না। আপনারা নিশ্চিন্তে উৎসব করুন, পুলিশ নিরাপত্তা দিবে।’
এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে নিরাপত্তা বিঘ্ন করার চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, ‘এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা ঢাকা মহানগরীতে ২৩০টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে। মণ্ডপের গুরুত্বানুযায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
এ সময় প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় প্রবেশ ও বের হওয়ার আলাদা পথ, মণ্ডপের প্রয়োজনে জেনারেটরসহ পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র রাখা, সিসিটিভি-আর্চওয়ে স্থাপন, পুরুষের পাশাপাশি মহিলা স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন, এসবি, পুলিশ ও র্যাবের ডগ স্কোয়াড দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল সুইপিং করা ও বিসর্জনের দিনে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার কথা জানান ডিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগর এলাকায় প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত কার কী দায়িত্ব তার নির্দেশনা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অফিসারদের দেয়া হয়েছে।’
এ ছাড়া নিরাপত্তার জন্য ঢাকেশ্বরী মন্দিরে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা এবং সেখান থেকে রাজধানীর সকল পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা তদারকি করার কথা জানান কমিশনার।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে প্রতিটি মণ্ডপে স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে নিরাপত্তা কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডিসি ও ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৮ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ১৯ অক্টোবর এর সমাপ্তি হবে।








