বারবার সময় নিয়েও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার খালাশ চেয়ে করা আপিলের ওপর শুনানি না করায় তার আইনজীবীদের ওপর ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।
খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি করতে দ্বিতীয় দিনের মতো সময় চাওয়ায় বুধবার (৩ অক্টোবর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে সময় চেয়ে আবেদন করেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। এ সময় আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
এর আগে গত ২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির দিন ধার্য থাকলেও তার পক্ষে সময় চাইলে আদালত বুধবার (৩ অক্টোবর) মামলার পরবর্তী দিন নির্ধারণ রাখেন বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর)। তবে এদিন খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর শুনানি করতে আদালতের কাছে পুনরায় সময় আবেদন এবং এ মামলায় তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি চান খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।
এ সময় আদালত খালেদা জিয়ার আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা আপিলের শুনানি করতে বারবার সময় চচ্ছেন। আবার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে বলছেন। শুনানি না করলে জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির কী প্রয়োজন? আপনাদের এ আচরণ আদালতের কাছে শোভনীয় নয়। ’
এরপর আদালত এ মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) পর্যন্ত মুলতবি রাখার আদেশ দেন।
এর আগে গত ১২, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৯, ৩০, ৩১ জুলাই, ৮ ও ১৩ আগস্টসহ মোট পনেরো দিন খালেদা জিয়ার আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি হয়। এরপর গত ২ অক্টোবর ও আজ বুধবার শুনানির দিন নির্ধারণ থাকলেও খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সময় আবেদনের কারণে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালাশ চেয়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিলসহ মোট চারটি আবেদনের ওপর শুনানি হবে। খালেদা জিয়ার আপিল ছাড়াও এ মামলা শুনানির অপেক্ষায় থাকা আরও তিনটি আবেদন হলো, খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে করা দুদকের আবেদন (রিভিশন), একই মামলার ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি কাজী সলিমুল হক কামাল এবং ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমদের করা পৃথক দুটি আপিল।
প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন সেখানেই আছেন।








