দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার (বীর বিক্রম) বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় তার আপিল গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এ মামলায় তিনি খালাস পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে সোমবার (৮ অক্টোবর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে মায়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার, ড. বশির আহমেদ, সাঈদ আহমেদ রাজা ও শাহ আলম ইকবাল। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রুনা নাহরীন, একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না।
মায়ার আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, ‘সাজার বিরুদ্ধে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার আপিল গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। মামলার শুনানিতে দুদক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে এ মামলায় তিনি খালাস পেলেন এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে তার আর কোনও বাধা থাকলো না।’
এর আগে ২০০৭ সালের ১৩ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক নূরুল আলম সূত্রাপুর থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
পরে ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশেষ জজ আদালত মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে ১৩ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানার রায় ঘোষণা করেন। পরে সে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর মায়ার কারাদণ্ড বাতিল করেন হাইকোর্ট।
কিন্তু হাইকোর্টের সেই আদেশের বিরুদ্ধে দুদক আবেদন করলে ২০১৫ সালের ১৪ জুন মায়াকে হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় বাতিল করেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে হাইকোর্টে নতুন করে আপিল শুনানির নির্দেশও দেওয়া হয়। পরে এ সংক্রান্ত রিভিউ খারিজ করেন আপিল বিভাগ।
এরপর আপিল বিভাগের আদেশ অনুসারে হাইকোর্টে মায়ার আপিলের ওপর পুনরায় শুনানি গত ১৪ আগস্ট শেষ হলে রবিবার (৭ অক্টোবর) মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেছিলেন হাইকোর্ট। কিন্তু মায়ার আইনজীবীরা এ মামলায় পুনরায় শুনানি করলে উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে রায় ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট।








