মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের আন্দোলন চলবে, ৩০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

ঢাবি প্রতিনিধি
২৫ অক্টোবর ২০১৮, ২২:০২আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৮, ২২:০৮

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মহাসমাবেশ

সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে মহাসমাবেশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রজন্মদের সমন্বিত সংগঠন ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’। সমাবেশ শেষে সংগঠনটির নেতারা ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে ৩০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেবে সংগঠনটি। 

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে’ আয়োজিত এক মহাসমাবেশে এই ঘোষণা দেন মঞ্চের নেতাকর্মীরা। দিনব্যাপী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকার বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররা। 

বিকেলে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘যারা মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছিল, শহীদ মিনার ভেঙেছিল, তারা কোনোদিন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের হতে পারে না। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীদের পক্ষ নিয়েছেন কে? ড.কামাল এবং তার সঙ্গে গুটি কয়েকজন লোক,যারা জনবিচ্ছিন্ন। ড.কামাল হোসেন একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ। তিনি নাকি তারেক রহমানের এবং বিএনপির সঙ্গে কথা বলেননি। তিনি তাদের জন্য নাকি আন্দোলন করেননি। অথচ আমরা দেখলাম তার পেছনে তারেকের ছবি। বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চান। আপনি একজন আইনজ্ঞ, আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করি এই দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সঠিক বিচার হয়েছে কী? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে আপনি কেন তাদের পক্ষে কথা বলেননি। আপনি কেন কোর্টে দাঁড়ালেন না? আমি মনে করি কামাল হোসেন, আ স ম রব এবং মান্না খুনিদের পক্ষে যোগ দিয়েছেন। সুতরাং পরিষ্কার বুঝতে হবে, কামাল হোসেন কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধ করেন নাই। তিনি ছিলেন পাকিস্তানে, শ্বশুর বাড়িতে। তখন বঙ্গবন্ধু তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন এবং একজন ব্যারিস্টারকে বঙ্গবন্ধু আইনমন্ত্রী করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘কামাল হোসেন অনেক নির্বাচন করেছেন, কিন্তু একবারও জিততে পারেন নি। জনগণ তাকে ভোট দেননি। আমি যদি জিজ্ঞেস করি ড.কামাল হোসেনকে, যখন বিএনপি শ্রমিকদের, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, তখন কী গণতন্ত্র নষ্ট হয় নাই? তখন বাংলাদেশের পরিবেশ নষ্ট হয় নাই? তার জন্য আপনি কথা বলেন না কেন? তার জন্য আপনাকে জবাবদিহিতা করতে হবে। আমরা আবার মাঠে নামবো এই জোটের বিরুদ্ধে, আমরা মাঠে নামবো রাজাকারদের বিরুদ্ধে। 

মন্ত্রী আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমাদের মনে রাখকে হবে সামনে জাতীয় নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনে লড়াই করতে হবে। সেই লড়াই হবে রাজাকারদের বিরুদ্ধে এবং ‘স্বাধীনতার বিরুদ্ধে'’।  

সমাবেশে এগারো দফা দাবি পেশ করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহবায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন। তিনি বলেন, সবার পরামর্শ নিয়ে সারাদেশে আনুষ্ঠানিক আন্দোলনের পদযাত্রা শুরু হলো। যতদিন পর্যন্ত দাবি আদায় না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) হেলাল মোর্শেদ খান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মঞ্চের সদস্য সচিব ওসমান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদ হোসেন মতিন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সদস্য সচিব আল মামুন প্রমুখ।  

/এসআইআর/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম