রাজপথে জনগণের নতুন ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে কোনও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না। কিন্তু সরকার জনগণের দাবি না মেনে দেশকে হানাহানির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে সংলাপে বাধ্য করে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ফেরত আনতে হবে।’
শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বৈরতন্ত্র-লুটপাটতন্ত্র রুখে দাড়ান, ভোটাধিকার ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হোন শীর্ষক জনসভার আয়োজন করে গণসংহতি আন্দোলন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘দশ বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ যে চরম স্বৈরতান্ত্রিক শাসন কায়েম করেছে, তা নজিরবিহীন। কিন্তু এই ক্ষমতার উৎস এমন একটি সংবিধান, যা দেশে ৭০ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে এক ব্যক্তির শাসন কায়েম করেছে। প্রধানমন্ত্রীই এখানে সব-ক্ষমতার মালিক।’
বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সব জাতীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকে প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্বে রাখার কারণেই কারও কোনও জবাবদিহিতা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘এই কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে ভূমিকা রাখারও সুযোগ নেই। এই অবস্থা অবসানে গণসংহতি আন্দোলন যে জাতীয় সনদ প্রস্তাব করেছে, সেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে, প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একই সঙ্গে জবাবদিহিতা ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে।’
গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, ‘সরকারের হুকুম তামিল করা নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা অর্জন করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগ ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া ছাড়া কোনও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না।’
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আবদুর রশীদ নিলু, ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার, হাসান মারুফ রুমি; সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, মনিরউদ্দীন পাপ্পু, আবু বকর রিপন, মুরাদ মোর্শেদ, আরিফুল ইসলামসহ অনেকে।








