ঢাকা-হালুয়াঘাট রুটের ইমাম পরিবহনের সুপারভাইজার শামীম শেখ। সড়ক পরিবহন আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের করা এই আইন বাতিল না করলে আমাদের পরিবহন ধর্মঘট চলবেই। গাড়ি চালানোর জন্য একজন চালককে অষ্টম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট দিতে হবে। এই আইন বাতিল করতে হবে। আমরা কোথা থেকে অষ্টম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট দেবো?’
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘এখনও এই দেশে কত মেম্বার, চেয়ারম্যান আছে, যাদের অষ্টম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট নাই। অনেকেই বড় বড় চেয়ারে বইসা আছেন। এছাড়া দেশে অনেক সংসদ সদস্য আছেন, যারা অষ্টম শ্রেণি পাস করেন নাই। সেখানে গাড়ি চালাইতে চালকের এই সার্টিফিকেট কি খুব জরুরি?’
শুধু তিনি নন, মহাখালী বাস টার্মিনালে ধর্মঘট পালনকারী পরিবহন চালক-শ্রমিকেরা রবিবার (২৮ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন আইনের কিছু বিষয় নিয়ে এভাবেই নানা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ‘সরকার আইন করেছে সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে চালকের পাঁচ বছরের জেল, ৫ লাখ টাকা জরিমানা। আবার ফাঁসিও হবে। আমরা এই আইন মানি না, এই আইন বাতিল করতে হবে।’
একজন চালক বলেন, ইচ্ছা কইরা কেউ তো দুর্ঘটনা ঘটায় না। রাস্তায় গাড়ি চলে, ওই সময় পথচারীরা কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনতে শুনতে রাস্তা পার হয়, হর্ন দিলেও শোনে না। সেখানে যদি কেউ গাড়িচাপায় পড়ে তবে দোষ কার? পুলিশ তো গাড়ি চালককেই দায়ী করে।
রুবেল নামে এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, ‘গাড়ি চালানোর জন্য আমাদের দেশে ভালো একটা হাইওয়ে রোড নাই, ভাঙা রাস্তা, মাঝখানে ডিভাইডার নাই, অনেক জায়গায় চিপা রোড। সেগুলো ঠিক না করে আইন করলে হবে না। রাস্তায় ফুটওভারব্রিজ থাকলেও পাবলিক রাস্তা দিয়ে পার হয়।’
আরেক পরিবহন শ্রমিক বলেন, ‘ইচ্ছা কইরা কোনও চালক কি অ্যাক্সিডেন্ট (দুর্ঘটনা) করে? সিগন্যাল না মাইনা মানুষ রাস্তা পার হয়, ওই সময় দুর্ঘটনা ঘটলে দোষ কি খালি চালকের? যাদের সার্টিফিকেট নাই হেরা (তারা) বড় চেয়ারে বসে আর গাড়ি চালাইতে ড্রাইভারের সার্টিফিকেট লাগবো, এইটা কেমন কথা?’
এনা পরিবহনের চালক মারুফ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এখন গাড়ি নিয়ে সড়কে বের হলে পুলিশ হয়রানি করে। গাড়ির কাগজ ঠিক থাকলেও থামাইয়া হয়রানি করে। চাকা পাংচারের পর রাস্তার পাশে গাড়ি রাখলে ছবি তুলে ভিডিও মামলা দেয়। রেকার লাগাইয়া বিল চায়। চাকা পাংচার হলে গাড়িটা কই নিয়া রাখমু কন?’
তিনি জানান, আমরা নতুন আইন মানি না, গাড়িচাপায় কেউ মারা গেলে চালকের ৫ বছরের জেল, ৫ লাখ টাকা জরিমানা বাতিল করতে হবে। এই আইন বাতিল না করা পর্যন্ত আমাদের পরিবহন ধর্মঘট চলবে।
ধর্মঘটের কারণে পরিবহন শ্রমিকরা সবাই বসে আছেন, খাবেন কি? মালিক কি বসিয়ে বসিয়ে টাকা দেবে? জানতে চাইলে ইমাম পরিবহনের সুপারভাইজার শামীম শেখ বলেন, পরিবহন মালিক কোনও টাকা দেবে না, খাওন নিজের টাকায় কিনা খাইতে হইবো। তবু এই আইন বাতিল না করা পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট চলবে।
মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার পরিবহনগুলো বন্ধ অবস্থায় টার্মিনালের ভেতরে রয়েছে। টার্মিনালের অপর পাশে সড়কেই সারি সারি বাস দাঁড় করানো রয়েছে। আর সড়কে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চলতে দেখা গেছে। সড়কে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রয়েছেন। আর শ্রমিকরা টার্মিনালেই তাদের অলস সময় কাটাচ্ছেন। সব মিলিয়ে সড়কে যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।







