বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, জঙ্গি অর্থায়ন ও অর্থ পাচারে জড়িত আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানইজড ক্রাইম। সোমবার (২৯ অক্টোবর) সিআইডি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেফতার আট ব্যক্তি হলো মু. ফজলুল হক রিকাবদার, হুমায়ুন কবীর, আশরাফুল হক, আসগর হোসাইন, শেখ শাহজাহান কবীর, মো. মনিরুল ইসলাম, মো. আব্দুর রউফ ও আল মামুন খন্দকার।
তারা বাংলাদেশ চাষীকল্যাণ সমিতি, নবধারা কল্যাণ ফাউন্ডেশন এবং নবকৃষি প্রাইভেট লিমিটেড— এ তিনটি এনজিওর সঙ্গে যুক্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল রবিবার (২৮ অক্টোবর) সিআইডি অর্গানাইজড ক্রাইমের একটি দল তিনটি এনজিও’র আট কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে। এই তিন এনজিও অর্থ আত্মসাৎ, জঙ্গি অর্থায়ন ও অর্থ পাচারে জড়িত। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের ও বিদেশের ধর্মীয় উগ্রগোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থ এনে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রচারণার কাজে ব্যয় এবং অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল।
সিআইডি অভিযোগ করেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে নিজেদের রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আর্থিক সাহায্য ও সহযোগিতা করা, অর্থ আত্মসাৎ করা এবং জঙ্গি ও সন্ত্রাসের কাজে অর্থায়ন করা।
সিআইডির অভিযোগ, ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ চাষীকল্যাণ সমিতির অ্যাকাউন্টে বিদেশি অনুদান হিসেবে মোট ৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়।
সিআইডি’র কর্মকর্তারা জানান, ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ চাষীকল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটির প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমীর ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন অবস্থায় ২০১৪ সালে মারা যাওয়া মাওলানা আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯২ সালে সমাজসেবা অধিদফতর এবং ২০০৫ সালে এনজিও ব্যুরো অ্যাফেয়ার্স থেকে নিবন্ধন পায়। গঠনতান্ত্রিকভাবে এটি এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে অরাজনৈতিক বেসরকারি উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান (এনজিও) হিসেবে অনুমোদিত হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর যাবতীয় কার্যক্রম জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে জানানো হতো। পরে জামায়াতে ইসলামীর কৃষিবিদ সদস্যরা নবকৃষি প্রাইভেট লিমিটেড ও নবধারা কল্যাণ ফাউন্ডেশন গড়ে তোলে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রচারণার জন্য।
জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ
২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোস্তাক আহমেদ খাঁ তুরস্কের ধর্মীয় উগ্র গোষ্ঠী থেকে অর্থ এনে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় জঙ্গিবাদ বিস্তার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন করে। পরে মোস্তাক আহমেদ খাঁয়ের নামে মামলা হলে বাংলাদেশ চাষীকল্যাণ সমিতি তুরস্ক থেকে অর্থ এনে জঙ্গিবাদে অর্থায়ন করেছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নবধারা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের অফিস (বাড়ি নং-৭৫, রাস্তা নং-১১, মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা) থেকে নব কৃষি প্রাইভেট লিমিটেডের কর্মচারী ইসমাইল হোসেন ও নবধারা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী অফিসার হাসানুল বান্নাকে জঙ্গিবাদ প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটারসহ গ্রেফতার করা হয়। নবধারা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ মাসউদ নিয়োগ দিয়ে জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করেছে।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
সিআইডি তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, কক্সবাজার-২ (মহেশখালি-কুতুবদিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদের নির্দেশে বাংলাদেশ চাষীকল্যাণ সমিতির অ্যাকাউন্ট থেকে ৪২ লাখ টাকা নবকৃষি প্রাইভেট লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়। একইভাবে গত বছরের ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ চাষীকল্যাণ সমিতি থেকে নবকৃষি প্রাইভেট লিমিটেডের অ্যাকাউন্টে আরও ১০ লাখ টাকা স্থানান্তর করে।
ভিন্নখাতে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ
চাষীদের কল্যাণের নামে অধিকাংশ বিদেশি অনুদান সংগ্রহ করা হলেও এর কিছু অংশ মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণে এবং বাকি টাকা দেশে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রচারণার কাজে ব্যয় করা হয়।
এখনও পলাতক যারা
ময়মনসিংহের মুহাম্মদ আব্দুল করিম ও গোলাম রাব্বানী। এই ঘটনায় গতকাল রবিবার মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে রমনা থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলা নং-৪০।








