জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়া হাইকোর্ট বেঞ্চের ওপর অনাস্থা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে করা আবেদন গ্রহণ করেনি আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) সকালে সোয়া ৯টার পরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই অনাস্থা আবেদন গ্রহণ না করার আদেশ দেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, মীর হেলাল, বদরুদ্দোজা বাদল, নওশাদ জমির প্রমুখ।
আপিল বিভাগে শুনানিকালে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্ট বেঞ্চের (বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ) প্রতি অনাস্থা জানান। এসময় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তাকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা প্রোপার ওয়েতে (চেম্বার আদালত হয়ে তারপর আপিল বিভাগে) আসেন।
তখন এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এমন অনেক নজির (চেম্বার আদালত না হয়ে সরাসরি আপিল বিভাগে আসার) আছে। আগেও এসেছি।’
তবে খালেদা জিয়ার অনাস্থা আবেদন গ্রহণ না করে তা ফিরিয়ে দেয় আপিল বিভাগ।
এরপর আদালত থেকে বের হয়ে জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা গতকাল আপিল বিভাগে একটি আবেদন (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অর্থের উৎস নিয়ে অধিকতর সাক্ষ্য চেয়ে আবেদন) নিয়ে গিয়েছিলাম। যদিও আদালত আবেদন সরাসরি খারিজ না করে নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। এসময় আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে আমাদের আবেদনটি আজকের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেন। আমরা ভেবেছি যে, হাইকোর্ট আবেদনটি শুনে আজকে আদেশ দিবেন। কিন্তু হাইকোর্টের কার্যতালিকায় দেখলাম, মামলাটি আজ হাইকোর্টে (বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে) রায়ের জন্য আছে। আমরা এ অবস্থায় বুঝতেই পারলাম না যে, আমাদের সেই আবেদনের (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অর্থের উৎস নিয়ে অধিকতর সাক্ষ্য চেয়ে আবেদন) আদেশ কি হলো? এতে আমরা বুঝতে পারলাম, হাইকোর্ট একতরফাভাবে সব করে যাচ্ছে। আমরা এজন্য সংক্ষুব্ধ হয়ে আপিল বিভাগে আজ আবেদন করে বলেছি- যেহেতু এই হাইকোর্ট আপনাদের আদেশ পালন না করেই মামলাটি রায়ের জন্য রেখেছে, তাই আমরা মনে করি আপিল বিভাগে যথার্থ বিচার পাবো। এই কথা বলে আমরা একটি আবেদন নিয়ে গিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ জে মোহাম্মদ আলী আবেদনটি আপিল বিভাগে উপস্থাপনের চেষ্টা করে আদালতকে বলেছেন- অতীতেও এমন নজির (হাইকোর্টের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন) আছে। তারপরও আপিল বিভাগ আমাদের আবেদনটি নেননি। এখানেও আমাদের একটি ব্যথা। আমাদের সব জায়গাতেই ব্যথা। এখানেও আমরা বিচার পাইনি।’
এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে তা জানতে চাইলে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের অনেক সিনিয়র আইনজীবী আছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’
প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাইকোর্টের আপিল শুনানিতে উপস্থিত না থাকায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা রায়ের দিন মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
খালেদা জিয়া ছাড়াও এই মামলার অন্য দুই আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদের খালাস চেয়ে আপিলের এবং এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকের রিভিশন আবেদনের ওপর রায় দেবেন হাইকোর্ট।








