প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে অনুষ্ঠিত সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ‘আগের পরিচয়’ জানার আগ্রহ ছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের। কিন্তু সংলাপের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে দেখে এই কথা আর মুখ দিয়ে বের করেননি। শুক্রবার (২ নভেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘রাজনীতিতে খুন, খুনের রাজনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মোহাম্মদ নাসিম।
তিনি বলেন, ‘সংলাপের শুরুতে যখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের পরিচয় পর্ব চলছিল, তখন অনেকেই অনেকরকম পরিচয় দিচ্ছিলেন। তখন আমি বলতে চেয়েছিলাম—আপনারা আপনাদের আগের পরিচয়টি দেন। কিন্তু আর বলিনি। কারণ, তাতে সংলাপের পরিবেশ নষ্ট হবে।’
সংলাপ ভালো হয়েছে উল্লেখ করে নাসিম বলেন, ‘‘সংলাপে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত নেতাদের বারবার বলেছেন—‘আপনাদের যা যা বক্তব্য আছে সবাই সব খুলে বলুন। আপনারা আপনাদের প্রয়োজনে সভা-সমাবেশ করুন, কেউ বাধা দেবে না। অহেতুক মিথ্যা মামলা থাকলে আমরা তা দেখবো।’ তাছাড়া, এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন।’’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন আমরা আমাদের আওয়ামী লীগ অফিসে যেতে পারতাম না। তখন আমরা রাজপথে মার খাওয়াসহ অনেক ধরনের অত্যাচার-নিপীড়ন সহ্য করেছি। কিন্তু আমরা কখনও করুণা নেইনি বা লিখিত আকারে আবেদন জানাইনি। তাই বিএনপির প্রতি আমাদের আহ্বান— আপনারা আসুন, নির্বাচন করুন। নির্বাচনে যদি জনগণ আপনাদের ভোট দেয় তবে নির্বাচিত হবেন, এতে কোনও অসুবিধা নাই। নির্বাচনে কারচুপি করার কোনও সুযোগ নাই। এই মিডিয়ার যুগে কোনও অবস্থাপনা হলেই সেটা দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে যায়। তাই মিডিয়ার যুগে কারচুপির কোনও সুযোগ নাই। তো ভয় পান কেন? নির্বাচন হবে। নির্বাচনে ভোট কারা দেবে, কীভাবে দেবে সবাই দেখবে। তবে যদি কোনও অভিযোগ হয়, কারচুপি হয়, এ দেশের মানুষ রুখে দাঁড়াবে। গর্জে উঠবে, কারচুপির বিরুদ্ধে। দুনিয়ার অনেক দেশে ইলেকশন হয়েছে। কারচুপির বিরুদ্ধে লড়াই করে আবার সেই রেজাল্ট বাতিল হয়ে গেছে। তাহলে অসুবিধা কী, ভয় কী? ইলেকশন হবে, ফেয়ার হবে, সুষ্ঠুভাবে হবে, প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন।’
আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গোল দিতে ভালো লাগে না। আবার রাজনীতি করবেন নির্বাচন ছাড়া, তাতো হয় না। মাছ যেমন পানি ছাড়া বাঁচে না, তেমনি একজন রাজনীতিবিদও নির্বাচন ছাড়া বাঁচতে পারে না। এজন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ক্ষমতায় আসতে না পারলেও সংসদে অন্তত আসেন। তাহলে সঠিক জায়গায় আপনাদের দাবিগুলো তুলে ধরতে পারবেন।’
এসময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাবার (শহীদ এম মনসুর আলী) জানাজা আমি পড়তে পারিনি। কিন্তু আমার গর্ব আমি তার সন্তান। জাতীয় চার নেতা দেশকে ভালোবেসে বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেননি। শহীদ এম মনসুর আলী ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করতে কখনও মাথা নত করেননি।’
সংগঠনের আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন— পরিকল্পনা কমিশনের অর্থনীতি বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী প্রমুখ।








