রাজধানীর শাজাহানপুর এলাকায় বিকাশ এজেন্টকে গুলি করে টাকা ছিনতাইকালে বাইক গ্যাং স্টার গ্রুপের ৮ সদস্যকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৩)। শনিবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর রামপুরা থানা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলো— মো. মেহেদী হাসান (২২), মো. শাহারিয়ার (২২), কাজী ইউসুফ বিন শওকত ওরফে অনিক (১৯), আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিন (২০), মো. আবু হুরায়রা আবিদ (১৮), মো. সাব্বির হোসেন (১৮), শিশির আহম্মেদ ওরফে সজল (২২) ও মাজহারুল ইসলাম ওরফে অনিক ইসলাম (২১)। এসময় তাদের কাছ থেকে ব্যবহৃত তিনটি গুলির খোসা,একটি ডামি পিস্তল ও পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৩ এর অপারেশন অফিসার (এএসপি) এ এস এম শাখাওয়াত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শনিবার সন্ধ্যায় খিলগাঁও তালতলা মেম্বারের গলিতে ২৭৫/বি নম্বরে একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে ২০-২৫ জনের একটি বাইকার গ্যাং।ওই সময় দোকানের মালিক মনির হোসেন টাকা দিতে রাজি না হলে প্রথমে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে এবং পরবর্তীতে গ্যাং-এর নেতা রাব্বী ওরফে পাঠা রাব্বী ও আদিত্য দোকানের মালিককে লক্ষ্য কের গুলি ছুড়ে। এসময় মনির একটু নিচু হলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এই ঘটনায় আশপাশের ব্যবসায়ীরা সবাই ছুটে আসলে তাদের সহায়তায় র্যাব-৩ এর টহল টিম সন্ত্রাসী দলের আট সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়।
শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানায়, পুরান ঢাকার খান রাসেল গ্রুপ,শাজাহানপুরের ইমন গ্রুপ, গোড়ানের হাওয়াই গলির মুজিবুর রহমান রানা গ্রুপ, গোড়ান ঝিলপাড়ের ছিনতাইকারী মেহেদী গ্রুপের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে। এই গ্রুপের সব সদস্যই তরুণ এবং তাদের বয়স ১৭-২৪ বছরের মধ্যে।’
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীর রয়েছে। তাদের গ্রুপের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
র্যাব-৩ জানায়, রাব্বী ওরফে পাঠা রাব্বী ও আদিত্য’র নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বাইক গ্যাং স্টার গ্রুপ ‘রোড রাইডার্স’ ও ‘ক্রাস বিডি’ নামে পরিচিত। তারা এলাকায় প্রায় একবছর ধরে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় তারা গ্যাং কালচারের নামে নানা অপকর্ম শুরু করে আসছে। এই কিশোররা মূলত পার্টি করা, হর্ণ বাজিয়ে উচ্চ গতিতে মোটরসাইকেল চালানো ও রাস্তায় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, হিরোইজম, থ্রিল থেকে ছিনতাই, মাদকের বাণিজ্য, মাদক বহন, মাদক সরবরাহকারী, মাস্তানি, দাদাগিরি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। বিশাল বাহিনী নিয়ে শোডাউনের নামে তারা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দস্যুতাসহ নানা রকম অপরাধ করে থাকে।








