পুরো বিশ্বে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সবার আগে চলে আসে যুক্তরাষ্ট্রের নাম। উত্তর আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রারম্ভিক এই সময়ে ক্ষমতার মসনদে আছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমান সময়ের গণ্ডি বিবেচনায় দুশো বছরের পুরোনো এই রাষ্ট্রযন্ত্রের ভবিষ্যত খুঁজতে আলাপে বসেন অ্যাডাম জনসন, ডেভিড বিয়েলো, জেমস মিক, কোর্টনি হোডেল ও নিশিদ হাজারির মতো পণ্ডিতেরা। পোস্ট-আমেরিকা ফিউচার শিরোনামে ঢাকা লিট ফেস্টের উদ্বোধনী এই সেশনটি সঞ্চালনা করেন কাজী আনিস আহমেদ।
কেবল মাত্র রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই নয়, বক্তারা আলোচনা করেন দেশটির সংস্কৃতি, সাহিত্য, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার খুঁটিনাটি নিয়ে।
‘দ্যা অরফ্যান মাস্টার’স সন’ উপন্যাসের জন্য ২০১৩ সালে পুলিৎজার জেতেন মার্কিন অধ্যাপক, লেখক অ্যাডাম জনসন। উত্তর কোরিয়ায় কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতায় এ উপন্যাসটি লেখেন তিনি। জনতুষ্টিবাদ বা পপুলিজম প্রসঙ্গ উঠে আসলে সেই অভিজ্ঞতার ফিরিস্তি দেন অ্যাডাম। তার মতে, যেকোনো কর্তৃত্ববাদী সরকার ব্যবস্থার ফলাফল হিসেবে শোষিত গোষ্ঠী আরও বেশি শোষণের শিকার হয়। আর এর পেছনে সেই সরকার রাষ্ট্রের সামষ্টিক উন্নতির চিন্তাকে কারণ হিসেবে দাঁড় করায়। লুইজিয়ানায় হারিকেন প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশও এই কাঠামোর বাইরে নয় বলে মনে করেন অ্যাডাম। আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতে এ ধরনের সামাজিক বৈষম্য, ঘাটতি বড় প্রপঞ্চ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন এই লেখক।
কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার নিয়ে কথা বলেন পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক, লেখক, টেডের বিজ্ঞান কিউরেটর ডেভিড বিয়েলো। রাষ্ট্রে ভয় দেখানো প্রথা কী প্রভাব ফেলতে পারে তার নমুনা এখনই দৃশ্যত হচ্ছে। আগামীর বড় পরিবর্তনগুলোর পূর্বকার দৃষ্টান্ত এগুলো। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো ক্ষমতাশালী দেশগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব, সৌরশক্তির মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডগুলোর পেছনে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সুবিধাই প্রাধান্য পায়, পরিবেশ-প্রতিবেশ নয়।
হোয়াইটিং ফাউন্ডেশনের রাইটার’স প্রোগ্রামের পরিচালক পদে আছেন কোর্টনি হোডেল। তিনি বলেন, জনতুষ্টিবাদ প্রক্রিয়াটিই হলো জনগণের শঙ্কা কমানোর প্রচেষ্টা। সাহিত্য এ ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রাখে। একটি মেয়ের নিগৃহ হওয়ার গল্পের পরতে পরতে সাজানো থাকে সেই সমাজের অসহিষ্ণুতার উদাহরণ। আসছে ভবিষ্যতেও সেই সময়ের সাহিত্য ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে।
ওরওয়েল পুরস্কারজয়ী ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখক জেমস মিক জীবনের লম্বা সময় রাশিয়ায় পার করেছেন। ৯০ এর দশকে রাশিয়ার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছেন। এখন দেখছেন ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া। তার মতে, জনবাদী মনোভাব ছাড়া ভবিষ্যত পৃথিবীর শান্তি আনা অসম্ভব।
৪৭ এর ভারত-পাকিস্তান ভাগ নিয়ে লেখা ‘মিডনাইট ফিউরি’স; দ্য ডেডলি লিগাসি অব ইন্ডিয়া’স পার্টিশন’ এর লেখক নিশিদ হাজারি। ২০১৬ সালে পেয়েছেন কোলবি পুরস্কার। তিনি বলেন, সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাব আর থাকছে না। চীনা কে-পপ সংষ্কৃতি বা ভারতের বলিউড বিশ্ব সংস্কৃতিতে এখন বেশ প্রভাবশালী। তিনি মনে করেন, ‘আমেরিকান ড্রিম নয়, কেবলমাত্র মানবিক চেতনাবোধেই মুক্তি মিলবে সামগ্রিকভাবে।’ এতেই নিহিত রয়েছে উত্তর আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যত।








