বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই- এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদুর রেজা সাগরের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নিরাপত্তা রক্ষীদের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স, আগ্নেয়াস্ত্র কেনার রশিদ তলব সংক্রান্ত দুদকের নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এই রায় দেন।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একেএম ফজলুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। আর রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম রিফাজ উদ্দিন।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা গেছে, দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায় ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট ‘রংপুরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বারিধারায় শটগানসহ জব্দ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন জানা যায় যে, বিপুল সংখ্যক জাল লাইসেন্স নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে।
এরপর ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহ-পরিচালক মো.আতিকুর রহমান চ্যানেল আই টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে একটি নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়, রংপুর কোতোয়ালি থানার একটি মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আপনার টেলিভিশন সেন্টারে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের নামে ইস্যু করা আগ্নেয়াস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র কেনার রশিদ এবং আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুদকে হাজির হতে বলা হচ্ছে।
কিন্তু ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তারা হাজির না হয়ে দুদকের নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চ্যানেল আইয়ের সিকিউরিটি গার্ড মো. আবদুর রহমান তালুকদারসহ চার জন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। সেই রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট দুদকের নোটিশের বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করেন এবং রিটকারীদেরকে অযথা নাজেহাল না করতে নির্দেশ দেন।
এরপর ওই রিটের রুল শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) আবেদনটি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এর ফলে দুদকের ওই নোটিশের কার্যক্রম, তদন্ত ও মামলা দায়েরে কোনও বাধা নেই বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।








