কুষ্টিয়ার দুর্গম চরচিলমারী, উদয়নগর ও বাজিতপুর সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম। তিনি সোমবার (১৯ নভেম্বর) এসব স্থান পরিদর্শন করেন।
বিজিবি সদর দফতররের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ মোহসিন রেজা জানান, চরচিলমারী ও উদয়নগর বিওপিতে বিজিবির কোনও মহাপরিচালকের এটাই প্রথম পরিদর্শন। এর আগে আর কোনও মহাপরিচালক সেখানের বিওপি পরিদর্শন করতে যাননি।
মুহম্মদ মোহসিন রেজা জানান, কুষ্টিয়ার চরচিলমারী সীমান্তে যাতায়াতের উপযুক্ত রাস্তা না থাকা, চর এলাকার মধ্য দিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক নিজে মোটরসাইকেল চালিয়ে এবং হেঁটে দুর্গম পথ অতিক্রম করে বিওপি পরিদর্শন করেন। চরচিলমারী বিওপিতে নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে সীমান্ত রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালনে বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। এরপর চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন মেহেরপুরের বাজিতপুর বিওপি পরিদর্শন করেন।
মুহম্মদ মোহসিন রেজা জানান, বিজিবি দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দীর্ঘ ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। দেশের পাহাড়ি এবং সমতল উভয় সীমান্তেই এমন অনেক দুর্গম এলাকা রয়েছে, যেখানে যাতায়াতের কোনও সড়ক নেই। এমনকি পায়ে চলার রাস্তাও নেই। বিজিবির অনেক বিওপি রয়েছে, যেখানে হেলিকপ্টার ছাড়া খাবার ও রেশন সামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব নয়। এছাড়া অনেক বিওপি রয়েছে, যেখানে হেলিকপ্টার অবতরণেরও ব্যবস্থা নেই।
উপযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এসব বিওপিতে কয়েক সপ্তাহ পরপর খাবার ও রেশন সামগ্রী পৌঁছাতে হয়। এসব দুর্গম বিওপিতে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত রক্ষার নিয়মিত দায়িত্ব পালনসহ সেখানে তাদের অবস্থান ও দৈনন্দিন জীবন-যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার ও রশদ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যা বিজিবি দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করছে।
কুষ্টিয়ার চরচিলমারী, উদয়নগর এবং মেহেরপুরের বাজিতপুর সীমান্তের বিওপি পরিদর্শনের সময় বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ আল মামুন, কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রাশিদুল আলম ও বিজিবির কর্মকর্তারা মহাপরিচালকের সঙ্গে ছিলেন।








