তাজরিন গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন শ্রমিক নিহতের ঘটনার বিচার চেয়ে ও নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন। শুক্রবার (২৩ শুক্রবার) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন করে সংগঠনটি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থিত তাজরিন ফ্যাশন কারখানায় ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। ওই ঘটনায় মোট ১১২ জন পোশাক শ্রমিক নিহত ও শতাধিক শ্রমিক আহত হন। তাজরিন অগ্নিকাণ্ডের ছয় বছর পূর্ণ হলেও এখনও পর্যন্ত ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। আমরা এ মানববন্ধনের মাধ্যমে নিহত শ্রমিকদের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের পূনর্বাসনসহ সব গার্মেন্টসে নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।
সংগঠনটির সভাপতি সুলতানা বেগম বলেন, ‘যখন গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বাড়ে, তখন সব কিছুর দাম বেড়ে যায়। ঘর ভাড়া, বাজার দর বৃদ্ধি পায়, ছেলেমেয়েদের স্কুলের খরচ বেড়ে যায়। তখন নামমাত্র আট হাজার টাকা দিয়ে আমাদের কিছুই করার থাকে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কিন্তু শ্রমিক। শ্রম আইনে সব জায়গায় আমরা শ্রমিক বলে আখ্যায়িত হয়েছি। বাংলাদেশের নারী শ্রমিকরা মা হবে এটাই স্বাভাবিক, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী ও বিরোধী দলের নেতাও নারী। তারা কী করে শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করলেন, আর আমাদের করলেন চার মাস। তারপরও যখনই জানতে পারে একজন শ্রমিক মা হবে, তখনই তারা ছলে-বলে-কৌশলে কী করে যেন রিজাইন লেটারে স্বাক্ষর রেখে তাদের বের করে দেয়। এটা আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়। আমরা এর আইনি বিচার চাই।’
মানববন্ধনে জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি মেজবাহউদ্দিন আহমেদ, কার্যকরী সভাপতি আবদুল ওয়াহেদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।








