সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে কটূক্তির মামলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন শুনানি আগামী ৩ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস্ সামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।
এদিন দুপুরে মইনুল হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আদালতে তার মামা আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন জামিন শুনানি করেন।
শুনানির সময় খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘মামলার ধারাগুলো জামিনযোগ্য। উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে, জামিনযোগ্য ধারার মামলায় আদালত জামিন দিতে বাধ্য। এ ছাড়া, মামলার চার্জশিট দাখিল হয়েছে। চার্জশিট আমলে নেওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই। আপনি আমাদের জামিন দিন।’ শুনানির সময় মঈনুল হোসেনর পক্ষে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়াসহ আরও অনেকে হাজির ছিলেন।
অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপক্ষে মামলার কেস-ডকেট না পাওয়ায় জামিন শুনানি পেছানোর আবেদন করছি।’ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
গত ৯ নভেম্বর গুলশান থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম এ চার্জশিট আদালতের সংশ্লিষ্ট জিআর শাখায় দাখিল করেন।
গত ২৪ অক্টোবর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন আওয়ামী লীগ উপ-কমিটির যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সদস্য সুমনা আক্তার লিলি। ট্রাইব্যুনাল বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে গুলশান থানাকে এজহার গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর গত ১ নভেম্বর এ মামলায় মইনুলকে হোসেনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলা দায়েরের ১৬ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।
মামলায় অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ৭১–এ প্রচারিত মিথিলা ফারজানা সঞ্চালিত টক শো ৭১ জার্নাল চলাকালে মাসুদা ভাট্টি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রশ্ন করেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আপনি যে হিসেবে উপস্থিত থাকেন, আপনি বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে উপস্থিত থাকেন, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে বলেন, আপনি জামায়াতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকেন।’ মাসুদা ভাট্টির এই কথার জবাবে মইনুল হোসেন বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনাকে আমি চরিত্রহীন বলে মনে করতে চাই।’ একজন নারীর প্রতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের এমন ইচ্ছাকৃত ধারাবাহিক কুৎসা রটনা ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য মাসুদা ভাট্টি ও নারী জাতির প্রতি বিরক্তিকর, অপমানজনক, অপদস্থমূলক এবং হেয়প্রতিপন্নকর বলে বাদী মনে করেন।








