ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) বর্তমান সময়ের আলোচিত ও উন্নত বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত একটি বিষয়। আইওটি হলো মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিভাইস সংযুক্ত করা, যা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করবে বা বিভিন্ন কাজে সাহায্য করবে।
শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে রমনায় লক্ষ্য নিউজ প্রেজেন্টেশন একাডেমির প্রধান কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে ‘সাইবার সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ’ -শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্য নিউজ প্রেজেন্টেশন ক্লাবের সভাপতি রাইসুল হক চৌধুরী।
সাইবার বিশেষজ্ঞ ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) বিষয়টির উদাহরণ হিসেবে আমরা স্মার্ট ফ্রিজের কথা বলতে পারি। আইওটি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা গেলে স্মার্ট ফ্রিজ হবে এমন একটি যন্ত্র যা নিজ থেকেই ভেতরে প্রয়োজনীয় খাদ্য আছে কিনা, তা শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে ফ্রিজের ভেতরে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে যা ফ্রিজের ভেতরের অবস্থা পরিদর্শন করে গ্রাহককে টেক্সটের মাধ্যমে সামগ্রিক অবস্থা জানাবে।’
তিনি বলেন, আইওটির মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের তথ্য সুরক্ষার জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা যেতে পারে। যার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ও অ্যাপ্লিকেশন সুরক্ষিত থাকবে। এছাড়া আপনি আপনার বাড়ির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন। যাতে করে আপনার বাড়িতে চোর ঢুকতে না পারে। কিন্তু এর নেতিবাচক দিক হচ্ছে, আপনার সকল তথ্য ওয়েবসাইটে থাকছে। আপনার দৈনন্দিন কাজে ফিটনেস ট্রেকার ডিভাইসে জিপিএস ট্রেকার থাকলে হ্যাকাররা আপনার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে। এর মাধ্যমে হ্যাকাররা আইডি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে অন্যান্যা ডিভাইসও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে। কারণ আইওটি নেটওয়ার্কে ডিভাইজগুলো চেইনের মতো কাজ করে।
ড. মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ‘২০১৬ সালে সেপ্টেম্বরে মিরাই বটনেট অ্যাটাক হয়েছিল। মিরাই বডনেট নামে ওই অ্যাটাকের সময় হ্যাকারদের একটা দল বিশ্বের বেশ কিছু দেশে বিপুল সংখ্যক ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এরকম হতে পারে ওয়াইফাই পাসওয়ডের্র ক্ষেত্রেও। আপনি যখন ওয়াইফাই নিচ্ছেন, তখন সব তথ্য দেওয়া লাগছে। সেই তথ্য পরিবর্তন না করলে তা হ্যাকারদের হাতে চলে যাচ্ছে। হ্যাকারদের হাতে সম্পূর্ণ তথ্য থাকায় তারা পুরো ওয়েবসাইটকে জব্দ করতে পারে। ওয়াইফাই, ফেসবুক, গুগুল, ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সাইট বা অ্যাকাউন্টের শুরুতে দেওয়া পাসওয়ার্ড ও ইউজার আইডির নাম পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েবসাইটে ঢুকে হোক অথবা ডিভাইস থেকে এগুলো পরিবর্তন করে নিলে বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইম অর্ধেক কমিয়ে আনা যেতে পারে।’
ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ কোনও ওয়েবসাইটের একটি অ্যাকাউন্টও যদি কোনও হ্যাকার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে, তবে পুরো ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে থাকে। কারণ আপনার যোগাযোগ, ফটো, ভিডিও, অবস্থান, স্বাস্থ্য ও আর্থিক তথ্যের মতো বিষয়গুলো তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।’
সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিন (আইবিএম) এর কর্মকর্তা ড. মাহমুদুর রহমান, সংগঠনের সহসভাপতি মোনাসিব রোমেল। এসময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।








