আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে এক নারীসহ দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-২)। সোমবার বিকাল ৩টা থেকে মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টা পর্যন্ত রাজধানীর তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- মুক্তা চৌধুরী ওরফে মনি চৌধুরী ওরফে উষা মুক্তা উষা (৪০) ও মো. মোফাছ্ছেল হোসেন (২৪)। মুক্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌলভীপাড়ার মৃত ফজলুল হকের মেয়ে। তার স্বামীর নাম গোলাম কিবরিয়া। অন্যজন মোফাছ্ছেল নোয়াখালীর চাটখিল থানার দক্ষিণ দেলিয়াইর মনির হোসেনের ছেলে।
র্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মোহাম্মদ সাইফুল মালিক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে জানা যা- কুচক্রি মহল বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ও রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক প্রচার এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে। তারা ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে সরকারবিরোধী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনার, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অপপ্রচার করছে। তারা বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের অনলাইন সংস্করণ, ফেসবুক, সোশ্যাল মিডিয়াকে বেছে নিয়েছে; যা মূলত সাইবার ক্রাইম।
তিনি আরও জানান, র্যাব-২ এর সাইবার টহল টিম নজরদারি অব্যাহত রেখে সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানার মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরের কাছ থেকে তাদের দুই জনকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজনের কাছে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র্যাব আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী অসত্য ও কুরুচিপূর্ণ প্রচার চালানোর উদ্দেশ্যে তারা ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- নির্বাচন কমিশন, সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও ছড়িয়ে জনমনে অসন্তোষ ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। এছাড়াও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনাম ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে তার কণ্ঠ নকল করে উস্কানিমূলক তথ্য পরিবেশন করেছে।
আটক দুজনের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান র্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মোহাম্মদ সাইফুল মালিক।








