বাংলাদেশের বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে নিয়ে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ‘বাংলাদেশ পোল সিন অ্যাজ চয়েজ বিটুইন ফ্রিডম অ্যান্ড প্রসপারিটি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’। ২৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনটি যাচাই করে দেখা গেছে, প্রতিবেদনের বেশ কিছু তথ্য বিভ্রান্তকর ও অসত্য। এদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার কাছে এই প্রতিবেদনের তথ্যের সত্যতার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তারা ‘মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ৪০টি ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে ঐক্য গড়েছে যার মধ্যে অন্যতম হলো হেফাজতে ইসলাম। একই সঙ্গে সুইডেনে বসবাসরত বাংলাদেশি একজন লেখকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই সংগঠনটির (হেফাজতে ইসলাম) সঙ্গে আল-কায়েদাসহ সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জোট গড়ার অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি ইসলামী দল জোট করতে চেয়েছিল কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তাদের সঙ্গে জোটগত নির্বাচনে যাওয়া হয়নি।’
অন্যদিকে ওই প্রতিবেদনের আরেক জায়গায় বলা হয়েছে, হেফাজতের ৩০-এর অধিক প্রার্থীকে এই নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
এ ব্যাপারে মাহবুবউল আলম হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট এর ড. কামালরা জামায়াতে ইসলামীকে বিভিন্ন জায়গায় মনোনয়ন দিয়ে যে সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন, জাতির কাছে তাদের যে সম্মানহানি হয়েছে, তারা সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে পরিকল্পিত মিথ্যাচারে নেমেছে। আওয়ামী লীগ থেকে হেফাজতের কাউকে কোথাও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি এবং এসব মিথ্যাচার করে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। আমরা যাদের মনোনয়ন দিয়েছি সেগুলো সব স্পষ্ট, ট্রান্সপারেন্ট। আমাদের প্রার্থীরা সবখানে নির্বাচন করছেন, তাদের সবার ব্যাকগ্রাউন্ড সবাই জানেন।’
একই প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলির সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা হেফাজত থেকে কাউকে মনোনয়ন দেইনি। এটা অপপ্রচার, মিথ্যাচার। একটা মাত্র ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আমাদের সঙ্গে নির্বাচন করছে, সেটা হলো তরিকত ফেডারেশন, যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে, প্রগতিশীলতায় বিশ্বাস করে এবং সুফিজম নিয়ে কাজ করে। তারা দুটি আসনে মনোনয়ন পেয়েছে। এছাড়া হেফাজতের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এটা মিথ্যাচার।’
এছাড়াও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, মাদ্রাসার শিক্ষাকে স্নাতকের সমমান করেছেন শেখ হাসিনা। জানা যায়, এক্ষেত্রেও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে পত্রিকাটি। প্রকৃতপক্ষে বর্তমান সরকার দাওরায়ে হাদিস পাস করা শিক্ষার্থীদের ইসলামিক স্ট্যাডিজে স্নাতকোত্তর হিসেবে সমমান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এছাড়াও ওই প্রতিবেদনে আল কায়েদার সঙ্গে হেফাজতের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য তাদের (হেফাজতের) একাধিক নেতার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও পুরো প্রতিবেদনে বর্তমান সরকারের কিছু প্রশংসা থাকলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে পত্রিকাটি। যার কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণও হাজির করেনি প্রতিবেদনে। তবে এ তথ্যটি বিএনপির আন্তর্জাতিক মুখপাত্রের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের ব্যাপারে গাজী টেলিভিশন ও সারাবাংলা ডট নেট এর এডিটর-ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। এটি আমরা খেয়াল করে দেখেছি যে, পশ্চিমা গণমাধ্যম তৃতীয় বিশ্ব সম্পর্কে যখনই রিপোর্ট করে, তখন তারা কোনও যাচাই বাছাই না করে তথ্যের নামে অদায়িত্বশীল মন্তব্য করে কিংবা মিথ্যা তথ্য দেয়। যেমন- হলি আর্টিজানের ঘটনার সময় পশ্চিমের নামকরা গণমাধ্যমকে দেখেছি, তারা যে ধরনের সংবাদ পরিবেশন করছিল তাতে অসত্য তথ্য যাচ্ছিল। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বাংলাদেশি একজন লেখকের মন্তব্যের ক্ষেত্রে যেটি ঘটেছে– তারা বাংলাদেশে যাদের কাছে তথ্য নেন কিংবা এমন কারোর সঙ্গে কথা বলেন যে, যাদের কাছ থেকে অথেনটিক তথ্য পান না।’









